জাতীয় সংবাদ

মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধ না হলে আন্দোলন চলবে : বাস চলাচল বন্ধে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ বরিশাল থেকে বানারীপাড়া রুটের শিমুলতলা এলাকায় থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা চালকরা বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করার প্রতিবাদে ও মহাসড়কে থ্রি হুইলার বন্ধের দাবিতে বরিশাল থেকে ঢাকাসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টা থেকে এই বাস ধর্মঘট শুরু হয়। জানা গেছে, বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীণ বেশ কয়েকটি রুটে থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা চলাচল নিয়ে বাস শ্রমিক-মালিক ও থ্রি হুইলার চালক-মালিকদের মধ্যে দীর্ঘ বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকালে শিমুলতলা এলাকায় বসে যাত্রী নেওয়াকে কেন্দ্র করে মাহিন্দ্রা চালক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। একপর্যায়ে মাহিন্দ্রা চালকরা বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে। এতে করে সকালেই বরিশাল-বানারীপাড়া-স্বরুপকাঠি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মাহিন্দ্রা চালকরা আরো বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করায়, প্রথমে নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীণ ১৪ রুটে এবং পরবর্তীতে দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে ধর্মঘটের ডাক দেয় বাস শ্রমিকরা। মহাসড়ক থেকে থ্রি হুইলার যান চলাচল বন্ধের দাবিতে তারা এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। বাস শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই শিমুলতলা এলাকায় বসে মাহিন্দ্রা চালকরা একত্রিত হয়ে আমাদের গাড়ি ভাঙচুর ও বেশ কয়েকজন স্টাফকে মারধর করেছেন। আমরা প্রথমে কোনো প্রতিবাদই করিনি। ভেবেছি, হয়তো উভয়পক্ষের দোষ আছে। পরে যে বাসই বানারীপাড়ার দিকে যাচ্ছে, সেই বাসেই হামলা করছেন তারা। এরপর পরই আমরা আমাদের বাস চলাচল বন্ধ করেছি। বাসচালক আমজাদ বলেন, মহাসড়কে থ্রি হুইলার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও পুলিশের সামনে থেকে তাদের মাসোহারা দিয়ে এসব যানবাহন চললেও তাদের কিছু বলা হয় না, মামলাও দেওয়া হয় না। এসব যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, মৃত্যু হচ্ছে বহু মানুষের। এসব যানবাহন বন্ধ করতে হবে, তা না হলে আন্দোলন চলবে। বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, হঠাৎ করে বানারীপাড়া বসে মাহিন্দ্রা চালকরা সড়ক আটকে ঝামেলা শুরু করেছে বাস শ্রমিকদের সঙ্গে। শ্রমিকরা প্রথম দিক দিয়ে কিছু বলেনি, পরে তারা দুপুরে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাধ্য হয়ে। এদিকে এ বিষয়ে থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রাচালক বা মালিকদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। বরিশাল মহানগরের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দুই পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাছাড়া নথুল্লাবাদে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে। এদিকে বাস ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। বাস না পেয়ে অপেক্ষারত দেখা গেছে অনেক মানুষকে। এ ছাড়াও দূরপাল্লার যাত্রীরা বাসে বসে থাকতে থাকতে পড়েছেন অসহনীয় ভোগান্তিতে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button