জাপানে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহী নিপ্পন এক্সপ্রেস

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ নিপ্পন এক্সপ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মানবসম্পদ ও শিক্ষা খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আলোচনা করেন। প্রতিনিধিদলটি জাপানের বিভিন্ন খাতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ফর্কলিফট পরিচালনা, ড্রাইভিং ও লজিস্টিকস খাতে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে তারা আগ্রহ জানান। পাশাপাশি বিভিন্ন জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সহজতর করার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারে অবদান রাখার আগ্রহও প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানান এবং জাপানের শ্রমবাজারের উপযোগী করে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রস্তুত ও দক্ষ করে তুলতে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি দুই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব জোরদারের প্রস্তাব দেন। রাষ্ট্রদূত আরও আশ্বস্ত করেন যে, কাক্সিক্ষত খাতে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের লক্ষ্যে জাপানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে উপযুক্ত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ স্থাপনে দূতাবাস সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। উল্লেখ্য, নিপ্পন এক্সপ্রেস একটি জাপানভিত্তিক বৈশ্বিক লজিস্টিকস কোম্পানি, যা বর্তমানে জাপানে দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিদেশি জনশক্তি নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তৃত কর্মসূচি পরিচালনা করছে। পরিবার নিয়ে ‘আত্মগোপনে’ ছিলেন পিন্টু দাস, খুঁজে বের করলো পুলিশ
চাঁদপুর শহরের ‘এসকে শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস এবং তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। লোকজনের বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত দিতে না পেরে তারা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার নিজ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল। পুলিশের বিশেষ দলের নেতৃত্ব দেওয়া সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কালাম গাজী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টুসহ পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে পিন্টু দাসের বাসা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, পিন্টু মানুষের কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখেছেন। বন্ধকি স্বর্ণ ফেরত দিতে না পেরে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। সম্প্রতি রংপুরে একই পরিবারের চারজন হত্যার ঘটনায় চাঁদপুর থেকে চারজন নিখোঁজের বিষয়টি নিয়েও পুলিশ প্রশাসনে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধারে চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও সদর মডেল থানা পুলিশ তৎপর হয়। দুদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। এদিকে পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে বন্ধক রাখা স্বর্ণ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন। এছাড়া তিনি শহরের মিজানুর রহমান চৌধুরী সড়কের সৌর ভিলায় ভাড়া থাকতেন। ওই বাসার মালিকের ছেলে রাসেল খান গত ২২ আগস্ট সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে পাওয়া যাচ্ছে না-এমন সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ তাদের উদ্ধারে কার্যক্রম শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং পুলিশের বিশেষ দলের অভিযানে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকা থেকে পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের চাঁদপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। উদ্ধারের পর তাদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ এবং স্বর্ণ বন্ধক সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



