সম্পাদকীয়

সড়ক ও ফুটপাতে চাঁদাবাজি, আইনগত ব্যবস্থা নিন

বাংলাদেশে বেকারত্ব সমস্যা এটা সবারি কম বেশি জানা। শিক্ষিত বেকারও দেশে কম না। শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়ায় পেশা হিসেবে অনেকে ব্যবসা করাকে বিবেচনা করেন। এভাবে অনেকের যোগ্যতা অনুযায়ী বেতন না পাওয়াতে ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেন। এই লক্ষ্য যথার্থ পুঁজি না থাকায় ফুটপাতে ব্যবসার পরিকল্পনা করেন অনেকে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার অনেক গুরত্বপূর্ণ জায়গায় ফুটপাত ব্যবসা পরিলক্ষিত হয় ঠিক যেমনটা দেখা যায় মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে। উন্নত সড়ক এবং ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে জন-সাধারণের উপকারের কথা ভেবে। কিন্তু সেখানে যদি সবসময় হকারদের জ্যাম লেগে থাকে তাহলে কেমন হয়? নিশ্চয় খুব খারাপ ও বিরক্তিকর বিষয় মনে হবে। এখন প্রশ্ন থাকতেই পারে যে সরকারি ভাবে তো ফুটপাতে ও সড়কে ব্যবসা করার কোনো অনুমতি নেই, তাহলে অনুমতি দেওয়ার পিছনে কী কোনো অপক্ষমতার হাত আছে? নিশ্চয় ক্ষমতাবান নেতাদের চাঁদাবাজির কারসাজি আছে। পত্র-পত্রিকার খবর থেকে জানা যায়, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজের পিলারের ফাঁকের খেজুরের এবং চা-দোকান বসানো হয়েছে। বাসস্ট্যান্ডের রাজ হোটেলের সামনে থেকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল গেট পর্যন্ত অসংখ্য ছোট-বড় দোকান বসে সড়ক আটকে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হকাররা। বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারের সামনের সড়কে বসেছে বিভিন্ন পণ্যের পসরা। অন্যদিকে পৌর সুপার মার্কেটের সামনের সড়ক ৪ ভাগের ৩ ভাগ হকারদের দখলে। এভাবেই সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সড়ক দখল করে চলে হকারদের বিভিন্ন ব্যবসা। বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বর থেকে উপজেলা গেট পর্যন্ত এই লাইনে দেখা মিলে আরো হকারদের। এই লাইনের হকাররা দুপুর পর্যন্ত ব্যবসা করে। পরে বিকাল পৌর সুপার মার্কেটের সামনের সড়কে এসে ভিড় করে। ফলে সড়কে দেখা দেয় তীব্র যানজট। এসব হকারের যত্রতত্র দোকান বসানোর কারণে অতিষ্ঠ পথচারীরা। অন্যদিকে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন চার লেন সড়ক এখন হকার ও স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজের আয়ের উৎস। একেকটি দোকান বসিয়ে ২০ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সালামি নেয় প্রভাবশালীরা। একই সঙ্গে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ নেওয়া হয় ২ হাজার টাকা। প্রশাসনের সামনেই এসব ঘটনা ঘটছে। কিন্তু আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এখনি উপযুক্ত সময় এসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার। বেকারত্ব সমস্যা রোধে হকারদের একেবারে ব্যবসা থেকে বঞ্চিত না করে তাদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হোক।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button