সম্পাদকীয়

রিমালের তা-বে কোটি মানুষের অস্তিত্ব সংকটে

ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে উপকূলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ল-ভ- হয়েছে দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় ছয় জেলা। সব মিলিয়ে মোট ১৯ জেলার ৩৭ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাণহানি হয়েছে অন্তত ১৪ জনের। এর মধ্যে ভোলায় তিনজন, পটুয়াখালীতে তিনজন, বরিশালে দুজন, চট্টগ্রামে দুজন এবং সাতক্ষীরা, খুলনা, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লায় একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতের মধ্যে অধিকাংশেরই গাছ ও ঘর ধসে মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারি হিসাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১০ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ১ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৫ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে ৩৬ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে গবাদিপশু, মাছের ঘের ও ফসলি খেত। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়েছে। এছাড়াও পানের বরজ গুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ উপকূলের কয়েক কোটি মানুষ আজ অস্তিত্ব সংকটের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলার ভয়াবহ তা-বের কথা উপকূলের মানুষ এখনো ভুলতে পারেনি। তার পরও একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আঘাত করে চলেছে। কয়েক বছরের মধ্যে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ফণী, বুলবুল, আম্ফান, ইয়াস, গুলাব, জোয়াদ, সিত্রাং, মোখা ইত্যাদি। একটির ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আরেকটি বিপদ এসে হানা দিচ্ছে। বর্তমান সরকার উপকূল রক্ষায় বেশ কিছু উদ্যোগ নিলেও সেগুলো বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত ধীর। বরগুনা জেলায় দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য। ঢিমে তালে সেই কাজ এখনো চলছে। কবে শেষ হবে কেউ জানে না। বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ মেরামতের আরো আটটি প্রকল্পেরও প্রায় একই অবস্থা। সাড়ে তিন বছর মেয়াদের ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ সাত বছরেও শেষ হয়নি। কবে শেষ হবে, সেটিও অনিশ্চিত। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং সে কারণে উপকূলবাসীর এই ভোগান্তি দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি বছর ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি এবং প্রাণহানি ঘটে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিবাসীদের আরও সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে উপকূলীয় জেলাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। তাই প্রাথমিকভাবে রিমালের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সরবরাহ করা ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছানো জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দেশের সামর্থ্যবানদের উচিত ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া। এ কাজটি যত দ্রুত করা যায় ততই তাদের জন্য মঙ্গল হবে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে উপকূলজুড়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিদ্যুতের সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপন করতে হবে। রাস্তাঘাট চলাচলের উপযোগী করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধগুলো সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button