সম্পাদকীয়

রাজধানীতে শব্দদূষণ বাড়ছেই, আইনি পদক্ষেপ নিন

নীরব ঘাতক শব্দদূষণের ব্যাপক উপস্থিতি রাজধানী ঢাকা শহরে। ঢাকার বিভিন্ন সড়কের সংযোগস্থলে সরকার নির্ধারিত গ্রহণযোগ্য মাত্রার (মানমাত্রা) চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ পর্যন্ত বেশি শব্দ থাকছে। রাজধানীর নয়নাভিরাম এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসস্থান ও কর্মস্থল মিন্টো রোডে গড়ে সবচেয়ে কম শব্দ পাওয়া গেলেও তা-ও মানমাত্রার চেয়ে দুই গুণ বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৭ সালে ঢাকায় নির্ধারিত মানমাত্রার চেয়ে দিনে শব্দ বেশি থাকতো ১০ ঘণ্টা জুড়ে। ২০২৩-২৪ সালে এসে তা ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা মহানগরীর ৪৫টি স্থানে শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন আন্দোলন (পরিজা)। পরিজার জরিপে দেখা গেছে, সরকার ঘোষিত ‘নীরব এলাকা’তেই সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ হচ্ছে। যেমন, সচিবালয়ের সামনে দিনের বেলায় নির্ধারিত মাত্রার দ্বিগুণ শব্দ হচ্ছে। ক্যাপসের গবেষণায় ৭৭টি রাস্তার সংযোগস্থলে শব্দের গড় মাত্রা পাওয়া গেছে ৯০.২৯ ডেসিবল। অর্থাৎ শহরের প্রতিনিধিত্বশীল সব জায়গাতেই শব্দের তীব্রতা মানমাত্রা ছাড়িয়েছে বড় ব্যবধানে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মানুষের শব্দ গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ৪০-৫০ ডেসিবল। পরিজার জরিপে আরো দেখা গেছে রাস্তার সংযোগস্থলগুলোর মধ্যে বরাবর শব্দের সর্বোচ্চ মান পাওয়া গেছে পল্টন মোড়ে। দিনের বেলায় এখানে শব্দের গড় মাত্রা পাওয়া গেছে ১০৫.৩ ডেসিবল। পল্টন মোড়কে বাণিজ্যিক এলাকা ধরে দেখা গেছে, সেখানে নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে দেড়গুণ বেশি শব্দ উৎপন্ন হচ্ছে। অন্যদিকে সবচেয়ে কম শব্দ পাওয়া গেছে মিন্টো রোডে, ৮০.৫১ ডেসিবল। নীরব এলাকা বিবেচনায় রাতের বেলা এখানে শব্দ দুই গুণ বেশি। ক্যাপসের জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীর সিটি কলেজ মোড় ও শিশু হাসপাতাল মোড়ে রাতে শব্দের গড় মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৯৭.৬৯ ডেসিবল ও ৮৫.৩৬ ডেসিবল, যা মানমাত্রার চেয়ে ২.৪ গুণ ও ২.১ গুণ বেশি। জরিপের সময়ে যানবাহন থেকে সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ক্যাপস। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই যানবাহনের হর্ন, ইঞ্জিন কিংবা ব্রেক চাপা থেকে শব্দদূষণ হয়। এ ছাড়া নির্মাণকাজ, রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান, কলকারখানা, জেনারেটর ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি থেকেও শব্দদূষণ হয়ে থাকে। পরিবেশ অধিদপ্তর প্রকাশিত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, শব্দদূষণের জন্য প্রধানত যানবাহনের হর্ন দায়ী। ২০১৭ সালে প্রকাশিত পরিবেশ অধিদপ্তরের এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসচেতনতার অভাব ও আইন প্রয়োগে শিথিলতাই শব্দদূষণের মূল কারণ। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকা-ের সুষ্ঠু তদারকি দরকার। এছাড়াও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংস্থাগুলোর সমন্বয় এবং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালাসহ আইনের সংস্কার জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button