সম্পাদকীয়

ভুতুড়ে বিদ্যুৎবিলে, সমস্যা খুঁজে সমাধান করুন

বিদ্যুৎ বিভাগের ‘ভুতুড়ে বিলে বিপাকে পড়েছে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করলেই অর্ধেক টাকা হাওয়া হয়ে যায়। পোস্টপেইডে মাসিক বিল দ্বিগুণ। অভিযোগের তোয়াক্কা করছেন না কর্মকর্তারা। পত্রপত্রিকার তথ্য থেকে জানা যায়, কেরানীগঞ্জের ঘনবসতি এলাকার মডেল টাউন আবাসিক ও ইস্পাহানি আবাসিক ছাড়াও জিনজিরা, আগানগর ও হাসনাবাদ এলাকার শতাধিক গ্রাহক ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আতঙ্কে রয়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন, নতুন মিটার হলে ৫০০ টাকা ঢুকালেই ২৫০ টাকা কেটে নেয়া হয়। এসব সমস্যার অভিযোগে বিদ্যুৎ অফিস কোনো তোয়াক্কা করে না। এছাড়াও বিদ্যুৎ অফিসে বেশ কয়েক বার অভিযোগ নিয়ে গেলেও কারো সাথে কেউ কথা বলতে চায় না। কেরানীগঞ্জ মডেল টাউন আবাসিকের একাধিক বাড়িওয়ালারা বিপদে আছেন। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, কুষ্টিয়া দৌলতপুরে প্রায় ২শ ৫০ জন গ্রাহকের মার্চ মাসের বিদ্যুতের বিল এসেছে দ্বিগুণ থেকে পাঁচ-ছয় গুনেরও বেশি। মার্চ মাসের বিলের কাগজ হাতে পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। তবে গ্রাহকের অভিযোগ, গত কয়েক মাস মিটার রিডার মিটারের কাছে না এসে অফিসে বসেই এই ভৌতিক বিল তৈরি করেছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে অতিরিক্ত গরমের কারণে এ মাসে বিদ্যুৎ বিল বেশি এসেছে। রাঙামাটি শহরের অদূরে ১নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর নামক এলাকা প্রায় দু’শতাধিক অসহায় দিনমজুর পরিবারের বসবাস। যাদের শতকরা ৯৯ জনই দিনে এনে দিনে খেয়ে দিনাতিপাত করতে হয় তাদের। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে ভুতুড়ে বিল করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। যেখানে মাসের বিদ্যুৎ বিল আসে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা সেখানে ৩ হাজার থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকার বিল করেছে রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগ। লক্ষ্মীপুররে রায়পুর উপজেলা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ভূতুড়ে বিলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে হাজার হাজার গ্রাহক। মার্চের তুলনায় এপ্রিল ও মে মাসে বিদ্যুৎ বিল দুই থেকে দিন গুণ বেশি এসেছে অভিযোগ গ্রাহকদের। এছাড়াও কোনো মাসে পূর্বের মাসের দ্বিগুণ আবার কোনো মাসে তার অর্ধেক বিল ধার্য করা হয়। এভাবে সারা দেশে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে ভুক্তভোগীর। বর্তমান পরিস্থিতি এমনিতেই হুমকির মুখে তার উপর ভুতুড়ে বিদ্যুৎবিল মানুষের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘা। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা আন্দোলনে নামার আগে এমন সমস্যা গুলো সমাধান করা অতি প্রয়োজন। যারা দুর্নীতি করে জন-সাধারণকে এভাবে হয়রানি করছে তাদের আইনের আওতায় আনুন। ভুক্তভোগীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে দিন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button