সম্পাদকীয়

পানির দাম বাড়ালে সেবার মানও বাড়াতে হবে

পানির দাম ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে ঢাকা ওয়াসা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এ দর কার্যকর হবে। তবে পানির দাম বাড়ালেও সেবা বাড়ানোর কোনো নামগন্ধ নেই, গ্রাহকের ভোগান্তিরও শেষ নেই। এর মধ্যে আবারও পানির দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে সংস্থাটি। এ নিয়ে গ্রাহকেরা ক্ষুব্ধ। নতুন করে নির্ধারিত দাম অনুযায়ী-আবাসিক গ্রাহকদের জন্য প্রতি এক হাজার লিটার পানির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ টাকা ৭০ পয়সা, যার দাম বর্তমানে ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। আর বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য একই পরিমাণ পানির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ টাকা ২০ পয়সা, যা বর্তমানে ৪২ টাকা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি এমনিতেই জনজীবনকে আর্থিকভাবে দারুণ চাপে ফেলেছে, মানুষ ভীষণ কষ্টে আছে। মূল্য সমন্বয়ের নামে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। একই কায়দায় ঢাকা ওয়াসাও পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্ধিত পানির দাম বহাল থাকলে জনমানুষের জীবনে দারুণতর আর্থিক কষ্টের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হবে। সেবার পরিবর্তে বাণিজ্যিক ধারায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা চালিয়ে, সরকারের কাছ থেকে একদিকে ভর্তুকি নিয়ে, অন্যদিকে কোম্পানির মুনাফা দেখিয়ে ঢাকা ওয়াসা যে লুণ্ঠনমূলক ব্যয় ও লুণ্ঠনমূলক মুনাফার প্রক্রিয়া তৈরি করেছে, তা যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনই জনস্বার্থের পরিপন্থী। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ১৬ বছরে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম বাড়ল ১৬ বার। এর আগে কভিডকালে ঢাকা ওয়াসা দুই বছরে দুবার আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে পানির দাম বাড়িয়েছিল। সর্বশেষ ২০২১ সালের জুলাইয়ে ঢাকা ওয়াসা পানির দাম বাড়িয়েছিল। ২০২২ সালেও পানির দাম বাড়াতে চেয়েছিল ঢাকা ওয়াসা। কিন্তু তখন ওয়াসা কর্তৃক পানির দাম বাড়ানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়। বিধি প্রণয়ন না করে ওয়াসার পানির মূল্যবৃদ্ধি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। অথচ এত দিন পানির দাম বাড়ানো নিয়ে সেভাবে আলোচনা হয়নি। ১৬ বছরে ১৬ বার পানির দাম বাড়ানো হয়। অথচ নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ পানি পান না নগরবাসী, এটি দুঃখজনক। পরিবেশবান্ধব, গণমুখী ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এশিয়ার পাবলিক সেক্টরে সর্বোত্তম পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হওয়া ওয়াসার লক্ষ্য। কিন্তু নগরবাসী যে ভোগান্তির শিকার, তা নিরসনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এখন রাজধানীর প্রায় সব বস্তি বৈধ সরবরাহের আওতায় এসেছে। তাই বিল অনাদায়ী থাকার কথা নয়। পানি দাম বাড়ানো হলে এখন সবচেয়ে গুরুত্ব দিতে হবে মানুষ যেন নিরাপদ ও সুপেয় পানি পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা। আর ভবিষ্যতে যাতে গ্রাহকদের আর ভোগান্তির স্বীকার না হতে হয় এবং খরচ যেন না বাড়ে সেদিকেও নজর দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button