সম্পাদকীয়

সিলেটে বন্যাদুর্গত এলাকায় সহায়তা নিশ্চিত জরুরি

টানা বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের পাঁচটি উপজেলা। মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। এবার সবচেয়ে বেশি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। এসব উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এবার নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে সিলেট নগরবাসীর মধ্যে। এরই মধ্যে সিলেট নগরের তালতলা এলাকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কার্যালয়ে পানি উঠেছে। এ বছর বন্যার চিত্র প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। সুনামগঞ্জেরও বেশির ভাগ এলাকা জলমগ্ন। সিলেটের প্রধান নদীগুলো বিশেষত সুরমা, কুশিয়ারার তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া, নগর ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন জলাশয় ভরাট, দখল হওয়া এবং সিলেটের উজানে মেঘালয়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণেই এই বন্যা। একে তো সিলেটে এই মৌসুমে সব সময়ই ঢল নামে। আগে ঢলের পানি আটকে থাকত না। সব পানি দ্রুত নেমে যেত। কারণ শহরে তখন অনেক পুকুর ছিল। এখন নগরের ভেতরের সব পুকুর-দিঘি ভরাট করে বড় বড় বিল্ডিং হয়েছে। হাওরগুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রধান নদীগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। নি¤œাঞ্চলের খালি মাঠগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে পানি নামতে পারছে না। এ ছাড়া নাগরিক বর্জ্য, বিশেষ করে প্লাস্টিকজাত দ্রব্যে সুরমা নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এই দুই নদী খনন ছাড়া বন্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। তাই যে কোনো দুর্যোগেই সিলেটের জন্য এটা একটা ভয়ের কারণ। ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও প্রবল বর্ষণে সিলেটের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদ-নদীগুলোতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সিলেটে গত কয়েক যুগের মধ্যে সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছিল ২০২২ সালে। বন্যার এত পানি এর আগে দেখেনি কেউ। এর ঠিক দুই বছরের মাথায় সিলেটে ফের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। সিলেটের ৫টি উপজেলা হঠাৎ করেই প্লাবিত হয়েছে। পানি প্রবেশ করে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। বেশির ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যার কারণে সিলেট জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বন্যায় জেলার ৭৫ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। এ মানুষগুলোকে সহায়তার জন্য যত দ্রুত সম্ভব সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সিলেটের মানুষ বিশুদ্ধ পানি, খাবার প্রভৃতি নিয়ে বিপাকে আছে। বেসরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোরও বন্যাকবলিত দুর্গত মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানো উচিত।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button