সম্পাদকীয়

গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

সারা দেশে তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলা শহরগুলোতে লোডশেডিং তুলনামূলক কম হলেও গ্রামাঞ্চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের বাসিন্দাদের প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কিছু জেলায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট থাকছে, যেখানে তাপমাত্রা থাকছে ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিদ্যুতের ঘাটতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেচের ওপর। দিন দিন পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ভোগান্তির মাত্রা এখন চরমে। গ্যাস সংকটে একদিকে গ্যাসভিত্তিক বেশকিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোয় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এতে বিদ্যুতের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে দেশব্যাপী হঠাৎ করে কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং বেড়েছে। আদানি গ্রুপের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির দুইটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে গ্রামাঞ্চলে জনভোগান্তি আরও তীব্র হয়ে ওঠার বড় আশঙ্কা রয়েছে। রাজধানীসহ সব মহানগরাঞ্চলে কারিগরি ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে সংকট সমাধানে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে যতটা ব্যগ্রতায় উদ্যোগী হতে দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুৎ-বিভ্রাট নিরসনে সে উদ্যোগের অনুপস্থিতি অতিশয় হতাশাপ্রদায়ক। সরকারি ঘোষণানুযায়ী দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় এসেছে। কিন্তু সংযোগ প্রাপ্তি আর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সুবিধাপ্রাপ্তি এক নয়। সেচের পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত না করে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের সর্বত্র নালা তৈরির মতোই তা অর্থহীন। বিদ্যুৎ-ঘাটতি থাকলে নিয়মিত লোডশেডিংকে তবু স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়ার মধ্যে সান্ত¡না খোঁজা যায়। কিন্তু বিদ্যুৎ ঘাটতি না থাকার পরও বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের মানুষ। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। কখনো কখনো বিদ্যুৎ ফিরে আসতে লেগে যায় কয়েক দিন। বিতরণব্যবস্থার কারণে সাধারণ গ্রাহক শতভাগ বিদ্যুতায়নের সুফল পাচ্ছে না। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি তীব্র তাপদাহেও মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ির জিনিসপত্র নষ্ট হওয়াসহ মানুষজনকে তীব্র কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকার ফলে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। ফলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম বিঘœ ঘটছে। তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলার পৌর সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাটবাজারগুলোতে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। করাত কল, ধান, আটাসহ মসলা ভাঙার মিলগুলো বন্ধ রয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে রক্ষিত ফ্রিজের মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই দুর্ভোগকে মেনে নিয়ে, সয়ে নিয়ে দিনযাপন করছেন গ্রামাঞ্চলের নিম্নআয়ের মানুষগুলো। তাদের অভিযোগ করার জায়গা নেই, প্রতিবাদ করারও সাহস নেই। লোডশেডিং গ্রামের মানুষের জন্য প্রায় অসহনীয় হয়ে পড়লেও তাদের কথা কেই-বা ভাবছে? তারা শুধু অপেক্ষায় থাকেন, বিদ্যুৎ কখন আসবে। তাই সরকারের গ্যাস সরবরাহ বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়া দরকার। গ্যাস সরবরাহ চালু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button