সম্পাদকীয়

প্রি-পেইড মিটারে বাড়তি বিল: ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনা জরুরি

দেশে বর্তমানে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্তসহ সাধারণ মানুষের অবস্থা নাভিশ^াস। আর এ সময়ে যদি বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত চাপ পড়ে তাদের জীবনে তাহলে তো জীবন আরও অসহনীয় হয়ে পড়বে। আগে বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা কাগজের বিল দিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করত আর এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে নগদে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে! তাহলে ডিজিটাল করার কী দরকার ছিল? ভোগান্তি কমানোর কথা বলে চালু করা প্রি-পেইড মিটার বর্তমানে অনেক সাধারণ গ্রাহকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে বিতরণ কোম্পানিগুলো পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চেয়ে টাকা (বিল) বেশি কেটে নিচ্ছে। জরুরি ব্যালান্স নিতে গুনতে হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত সুদ। পত্রপত্রিকার থেকে জানা যায়, গত মে-জুন মাসের পর থেকে বেশির ভাগ গ্রাহকের বিল আসছে দ্বিগুণের বেশি। চলতি সেপ্টেম্বরে বিলের এই উত্তাপ আরো বেড়েছে। আগে যাঁদের গড়ে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা বিল দিতে হতো, এখন তাঁদের দিতে হচ্ছে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিদ্যুৎ বিলের পেছনে বাড়তি টাকা খরচ করতে গিয়ে নাভিশ্বাস সাধারণ গ্রাহকের। প্রি-পেইড মিটারে ভোগান্তির সাথে বেড়েছে বিল। বিইআরসির অনুমোদন ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর কোনো ধরনের চার্জ বা অর্থ আরোপ করার ক্ষমতা নেই বিতরণ কম্পানির। অথচ দেশের ছয় বিতরণ কোম্পানি এমন সব খাতে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ কেটে নিচ্ছে, যাতে বিইআরসির অনুমোদন নেই। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহককে ৩০ টাকা ডিমান্ড চার্জ, মোট বিলের ৫ শতাংশ বিলম্ব বিলের জরিমানা এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। কিন্তু ৬টি কোম্পানি এই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ইচ্ছামতো টাকা কেটে নিচ্ছে। জরুরি ব্যালেন্স হিসেবে ২০০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, পরবর্তী সময়ে রিচার্জের সময় এই টাকার সুদ হিসাবে ৫০ টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। আবার মিটারের লক খুলতেও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুতের বাড়তি বিলের চাপ নিয়ে হয়রানি এবং প্রতিকার না পাওয়ার হতাশা থেকে অনেক গ্রাহকই অভিযোগ করে না। এই সুযোগে বাড়তি বিল নিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের কাছ থেকে। এটা যে কাঠামোগত দুর্নীতি, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এই কোম্পানিগুলোর তদারকি করার দায়িত্ব হলো বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু তাদের কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ চোখে পড়ছে না। তাই জনস্বার্থে কাঠামোগত এই দুর্নীতির পথ বন্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। আমরা আশা করব, দ্রুত উক্ত বিষয়ে সরকার নজরদারি বাড়িয়ে বিদ্যুৎ বিলের ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনবেন।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button