আজ যশোরে খাল খনন কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন প্রধামন্ত্রী

# সু-স্বাগতম প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান #
# ৭০’র দশকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উলাসী ও যদুনাথপুর খাল খননের মাধ্যমে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন #
যশোর ব্যুরো ঃ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ওয়াদা বাস্তবায়নে সরকার গঠনের আড়াই মাসের মধ্যে যশোর বাসীর প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে আজ ২৭ এপ্রিল যশোরে আসছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী যশোর জেলা এখন উৎসবের জেলায় পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। এই সফরের মূল কেন্দ্র বিন্দ ুযশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক উলাশী-যদুনাথপুর খাল, যা স্থানীয়ভাবে জিয়া খাল নামে পরিচিত, দীর্ঘ ৫০ বছর পর আবারও এই খাল তার প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে। আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই খালটির পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। ১৯৭০-এর দশকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে পরিচালিত খাল খনন বিপ্লব-এর অন্যতম প্রধান অংশ ছিল এই উলাশী-যদুনাথপুর খাল। উলাশী ও রঘুনাথপুর গ্রামের মুখ থেকে শুরু হয়ে যদুনাথপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই খালটি এক সময় এই অঞ্চলের কৃষি ও সেচ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়েছিল। তবে দীর্ঘ পাঁচ দশক কোনো সংস্কার না হওয়ায় পলি জমে এবং দখল-দূষণে এটি বর্তমানে প্রায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষিতে ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। খালটি পুনঃখনন করা হলে শত শত একর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংস্কারের মাধ্যমে এটি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে টিকে থাকবে।
শুধু খাল খনন উদ্বোধন না প্রধানমন্ত্রী আজ বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল জনসভায় যশোরের মানুষের জন্য কল্যাণময় ও উন্নয়নের বিভিন্ন স্থাপনে তৈরীর লক্ষ্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন। ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের এই জনপদ থেকে তিনি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন তার ভাষনের মাধ্যমে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী যশোরের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন ও যশোর ইনস্টিটিউট ( পাবলিক লাইব্রেরী) পরিদর্শন।
প্রধানমন্ত্রী যশোর সফরকে কেন্দ্র করে যশোর শহর ও আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ ও বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ পথগুলোতে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরজুড়ে তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে যশোর অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্ব পাবে বলে তারা অধিক আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের পথ ও জনসভার সময় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ট্রাফিক ব্যবস্থায় সাময়িক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু রুটে ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে। যশোরের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। তারা আশা করছে একটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। তার আগমনকে লক্ষ্য করে যশোর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দিনরাত বিভিন্ন কর্মসূচীতে সক্রিয় ভূমিকায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের চেয়ারপারসন যাতে যশোর জেলা বিএনপি’র প্রতি সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন তার জন্য কোন কিছু কমতি রাখেনি তাদের কার্যক্রমে।



