জাতীয় সংবাদ

গর্ভবতী মা’কে সন্তানসহ ধর্ষণ, পরে খুন!

এ যেন মানুষ রূপের এক নরপিশাচের সমাজে বসবাস করছি আমরা। যেখানে এক অন্তঃসত্ত্বা মাকে করা হয় ধর্ষণ, যেখানে নবজাতক সন্তানও রেহাই পায় না ধর্ষকদের হাত থেকে। এমনই এক বীভৎস ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সন্দেহ হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটির নিচ থেকে চুলের অংশ দেখতে পান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় এক নারীর মরদেহ এবং তার সঙ্গে থাকা একটি নবজাতকের দেহ।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, মৃতদেহের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছেÑঘটনাটি অন্তত ৮ থেকে ১০ দিন আগের। পুলিশ বলছে, নারীটি সম্ভবত সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং ধর্ষণের পর মৃত্যুর সময়ই শিশুটির জন্ম হয়। এরপর মা ও শিশুকে একসঙ্গে বস্তাবন্দি করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়Ñনারীকে ধর্ষণ করে তার গর্ভের সন্তানকে বের করে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে ফরেনসিক রিপোর্ট ছাড়া প্রকৃত ঘটনা বলা সম্ভব নয়। লোমহর্ষক এই ঘটনাটি মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী, একটি অসহায় নবজাতকের এমন পরিণতি শুধু অপরাধ নয়, এটি মানবিকতার চরম ব্যর্থতা।

পুলিশ জানিয়েছে, এখনো মা ও নবজাতকের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাংগাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনাটি সামনে নিয়ে আসে আমাদের আশেপাশে দৈনন্দিন চলাফেরা করা মানুষরূপী নরপিশাচদের এক কঠিনতম বাস্তবতা। যারা হয়ত আজ আমাদেরই পাশ দিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে কোনো প্রকার আইনকানুনের তওয়াক্কা ছাড়াই।

এতে প্রশ্ন আসে, আমরা কি সত্যিই বসবাস করছি এক মানবিক সমাজে? নাকি পৌঁছেছি এক নির্মম বাস্তবতায়, যেখানে মানুষ নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে অমানবিকতা?

একজন মা এবং একটি নিষ্পাপ শিশু, যাদের নীরব মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আইন যতই শক্তিশালী হোক, সমাজের বিবেক না জাগলে এমন অন্ধকার বারবার ফিরে আসবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button