ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোল্লাহাটে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিএফের চাল নিতে কার্ডধারীদের সারি।
তাদের অভিযোগ, প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত। চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল স্কেল মিটারে ওজন করে ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা। তবে বাস্তবে কোনো প্যাকেটে ৮ দশমিক ৫৫০ কেজি, কোনোটিতে ৮ দশমিক ৮০০ কেজি, আবার কোনো প্যাকেটে ৯ দশমিক ১০০ কেজি পর্যন্ত চাল রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিজন সুবিধাভোগীকে এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হচ্ছে।
চাল বিতরণের সময় চুনখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোজ পাল উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতেই ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা চাল বিতরণ করছিলেন বলে জানা গেছে। তবে বিতরণস্থলে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের বাইরে কিছু উপকারভোগী ভিজিএফের চাল নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী চালের প্যাকেট ২০০ টাকায় কিনে নিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, প্রত্যেক প্যাকেটে এক থেকে দেড় কেজি চাল কম থাকায় তারা কম দামে কিনছেন।
অপরদিকে কয়েকজনকে দেখা যায় যারা একাই ২০-৩০ কেজি চাল গ্রহন করেছেন। ভুক্তভোগী কয়েকজন নারী বলেন, আমাদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে সর্বোচ্চ ৯ কেজি।
এ বিষয়ে চুনখোলা ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রসেন দাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি, ফোনটি তিনি ট্যাগ অফিসারের কাছে ধরিয়ে দেন।
ট্যাগ অফিসার জয়দেব কুমার মল্লিক বলেন, তিনি দায়িত্ব প্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার নন, তিনি ট্যাগ অফিসার শেখর পালের পরিবর্তে এসেছেন।
তিনি বলেন, সকালে পিআইও অফিসার এসে সরকারী বস্তায় ৫০ কেজি ওজন সঠিক আছে কিনা যাচাই করে গেছেন, প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি ১০০/২০০ গ্রাম বেশি পেয়েছেন। এর পর তারা উদ্বোধন করেছেন। পরে তিনি দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং গ্রামপুলিশ চাল বিতরণ করছেন। চাল কম দেওয়ার অভিযোগ তিনি জানেন না এবং সকাল থেকে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি মেম্বার মামুন বলেন, চাল কম দেয়ার কোন সুযোগ নেই, দুই একটা তাড়াহুড়োর ভিতর এদিক ওদিক হতে পারে তবে আমরা আমাদের সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ওজনে চাল কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শ্যামা নন্দ কুন্ডু জানান, অভিযোগের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


