স্থানীয় সংবাদ

খুলনার ঈদবাজার : শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সর্বস্তরের মানুষ

# মার্কেট সমূহে ক্রেতায় মুখরিত, সন্ধ্যার পর উপচে পড়া ভীড় #
# তরুনেরা পাঞ্জাবী ও তরুনীরা শাড়ীতে বেশি আগ্রহী, ফুটপাতে বেচাকেনা বেশি #

মো. আশিকুর রহমান : ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। আজ আকাশে চাঁদ দেখা গেলে কাল মুসলিম উম্মেহার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে। এক মাস সিয়াম সাধনার পর পরিবারের সকলে মিলে মিশে নতুন পোশাকে ঈদের বাড়তি আনন্দটুকু ভাগাভাগি করে নিতে তাই শেষ মহুর্তের কেনাকাটায় চরম ব্যস্ত সময় পার করছে সর্বস্তরের মানুষ। ক্রেতাদের শেষ মুহুর্তের কেনাকাটাকে ঘিরে তাই ব্যস্ততম খুলনা মহানগরী প্রাণকেন্দ্রে গড়ে ওঠা সব আধুনিক বিপনীবিতান, শপিংমল, মার্কেটসহ ভ্রাম্যমান দোকানগুলোতে এখন চলছে কেনাকাটা মহোৎসব। শেষ মুহুর্তের কেনাকাটা করতে খুলনাসহ আশ-পাশের স্থানীয় অঞ্চলগুলো হতে আগত পরিবার-পরিজনের জন্য নতুন পোশাক কিনতে শিশু, নারী-পুরুষ, তরুন-তরুনী, আবাল-বৃদ্ধা সব বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভীড় খুলনার ঈদ বাজারকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলছে। বুধবার (১৮ মার্চ) দিনজুড়ে খুলনা বিভিন্ন মার্কেট-শপিংমল ঘুরে এসব দৃশ্য দেখা গেছে। তবে অভিজাত মার্কেটের চেয়ে ফুটপাতে ভীড় ও বিক্রি বেশি হচ্ছে বলেও দেখা গেছে। কারন ফুটপাতের দোকানগুলোতে বেশি ভীড় জমাচ্ছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর ক্রেতারা, যে কারনে অভিজাত মার্কেট গুলো থেকে ফুটপাতে কেনাবেচা বেশি।
খুলনার বিভিন্ন মার্কেট, শপিংমল, আধুনিক বিপনীবিতান সমূহের বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঈদকে ঘিরে তরুনেরা পাঞ্জাবি, জিন্স প্যান্ট, টি র্শাট, ফরমাল ফ্যান্ট ও শার্ট কিনছে, তবে পাঞ্জাবীর প্রতি তরুনদের ঝোক বেশি। পাশাপাশি তরুনীরা তাই বাহারি পাকা রঙ ও ডিজাইনের গ্যাস সিল্ক, বেনারসি, জামদানি, ঝুট জামদানি, কারচুপি, কাতান, জের্জেট, কাঞ্জীবরন, মাচরাইচ কটন শাড়ী, পাশাপাশি পাকিস্তানী, ভারতীয় কটন, কটন সিল্ক, সারারা-গারারা, নাইরা, মুসলিন উড়গাঞ্জাসহ বিভিন্ন ধরনের থ্রী-পিস কিনছে। তবে তরুনীরা বেশি পছন্দ শাড়ী। এবছর ঈদে নতুন পোশাকের সংযোজন রয়েছে থ্রী-পিস ‘ফার্সি’। তবে সেই আগের আকর্ষণ সারারা,গারারা ও নাইরা কিনছে অনেক ক্রেতাই। বাচ্চাদের জন্য পোশাকের মধ্যে রয়েছে ফ্রক, টু-পার্ট, সারারা-গারারা, নাইরা, স্কার্ট, বেবি সেট এবং বিশেষ আকর্ষন থ্রী-পিস ‘ফার্সি’। জুতার শিশু-নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে চায়না সু, লাইটিং কেডস্, লাইটিং স্যান্ডেল, স্পোটর্স সেন্ডেল, মহিলাদের কাটা হিল, ফ্লাট স্যান্ডেল, পাম্প সু এবং পুরুষদের জন্য লোফার, স্পোর্টস স্যান্ডেল, চায়না লোফার, দুই ফিতা সেন্ডেল, কেডস্, চায়না জুতা ও ফরমাল জুতা কিনছে ক্রেতারা।
ডাকবাংলা রেলওয়ে মার্কেটে আসা ক্রেতা সাদিয়া জানান, রোজা রেখে মার্কেটে ঘুরে ঘুরে কেনাকাটা করতে ভালো লাগে না। তাই প্রতি বছরই ঈদের দুদিন আগে কেনাকাটার জন্য ঈদ বাজারে আসি। একদিনই সকালে মার্কেটে ঢুকি, সবার জন্য কেনাকাটা করে চলে যায়। আর শেষে দিকে বেশি বাজার জমে ওঠে ভালেই লাগে। খুলনা শপিংমলে আসা ক্রেতা নাদিরা জানান, পনের রোজার পর থেকে টুকটুক করে ঈদের কেনাকাটা করি। গতকাল বাজারে এসেছি, বাকি কেনাকাটা করতে। একটা সিল্কের শাড়ী কিনলাম এবং কসমেটিক্স কেনাকাটা করলাম। ক্রেতা শাহিনুর জানান, একদিন পরই ঈদ। একমাস রোজা রেখেছি। সবাই মিলে আনন্দে ঈদ করবো। তাই পরিবারের সবার জন্য ঈদের মার্কেট করতে এলাম। আব্বু-আম্মু- ভাইয়া সবার জন্য কেনাকাটা করেছি। পরিবারের সকলের জন্য নতুন পোশাকব কেনা হয়েছে। এটা খুব আনন্দের। দৌলতপুর বাজারে আসা ক্রেতা হামিম তালকুদার বাবু জানান, আলহামদুল্লিাহ, সুস্থভাবে রোজা রাখতে পারছি। এক মাস রোজা রাখার পর পবিরারের সবাইকে নতুন পোশাকে ঈদ পালনের আনন্দই অন্য একটা অনুভূতি। দুই ছেলের জন্য, ছেলের মায়ের জন্য এবং পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করা হয়েছে। গতকাল বাকি ছিল সেন্ডেল, সবার জন্য বাহারী ডিজাইনের সেন্ডেল কেনা হয়েছে। খুলনা ডাকবাংলা রেলওয়ে মার্কেটে আসা ক্রেতা আব্দুল হালিম জানান, আমরা তো সরকারি চাকুরী করি না, যে বেতন-বোনাস পেয়ে ঈদ বাজারে আসবো। শেষ সময় পর্যন্ত কাজ করে টাকা যোগাড় করি। গতকাল পরিবার নিয়ে বাজারে গিয়ে ছিলাম। সাধ্যে মধ্যে সবার জন্য ঈদের পোশাক কিনেছি। দৌলতপুর দেয়ানা উত্তরপাড়া এলাকা হতে ডাকবাংলো ঈদ বাজারে আসা আরিক জানান, আম্মুর সাথে ঈদের বাজারে এসেছি। আম্মুর ঈদের জন্য নতুন পোশাক কিনে দিয়েছে। বন্ধুদের নিয়ে আনন্দে ঈদ করবো।
খুলনা রেলওয়ে মার্কেটের ব্যবসায়ী ফারুক জানান, আলহামদুল্লিাহ বেচাকেনা খুবই ভালো। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ক্রেতা সাড়া খুবই সন্তোষজনক। ঈদের সন্যিকটে, শেষ সময়ে ব্যাপক ক্রেতা সাড়া বাড়ছে। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। পাঞ্জাবী বিক্রেতা সাহিদুল ইসলাম জানান, আমার পাঞ্জাবির দোকান, বেশ ক্রেতা সাড়া ভালো। বিশেষ করে তরুনেরা পাঞ্জাবীর উপর খুব আগ্রহী। শেষ সময়ে কেনাবেচা খুব ভালো।
খুলনা শপিং কমপ্লেক্সের পোশাক বিক্রেতা পলাশ জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর কেনাবেচা ভালো, অর্থ্যা ক্রেতা সাড়া ভালো। আমরা চেষ্টা করেছি গুনগত মান ও রুচির পোশাক সংযোজন করতে। ওই ধারাবাহিকতায় এ বছর দোকানে পাকিস্তানী, ভারতীয় কটন, কটন সিল্ক, সারারা-গারারা, নতুন সংযোজন ফার্সি বিক্রি করছি। তাছাড়া বাহারি রঙ ও ডিজাইনের মেয়েদের পোশাক সংযোজন করা হয়েছে। বিশেষ করে শেষ সময়ে এসে সন্ধ্যার পর বেশি ভীড় হচ্ছে, কেনাবেচা সন্তোষজনক। শাড়ী বিক্রেতা প্রবীর সাহা জানান, প্রতি ঈদে তরুনীদের বেশি ঝোঁক থাকে শাড়ির উপর। বিশেষ উঠতি বয়সী তরুনীদের। শেষ সময়ে গ্যাস সিল্ক, বেনারসি, জামদানি, ঝুট জামদানি, কারচুপি, কাতান, কাঞ্জীবরন, মাচরাইচ কটন প্রভৃতি শাড়ী কিনতে তরুনীরা বাজারে ভীড় জমাচ্ছে। প্রসাধনী বিক্রেতা ইলিয়াজ জানান, দোকানে দেশি-বিদেশী বিভিন্ন ব্যান্ডের প্রসাধনী তুলেছি ঈদ উপলক্ষ্য। পনের রোজার পর থেকে মোটামুটি কেনাবেচা চললেও শেষ সময়ে এসে মেহেদী, আয়লারান, ফ্রেশ ওয়াজ, বিভিন্ন ডিজাইনের চুড়ি, গলার হার, কানের দুল, চুলে থোপা, লিপস্টিকসহ অন্যান্য প্রসাধনীর বিক্রি বড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button