মরক্কো ১ ব্রাজিল ১ : যেসব কারণে মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। স্কোরলাইন হয়তো খুব হতাশাজনক মনে নাও হতে পারে, কিন্তু ম্যাচের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। বল দখলে সামান্য এগিয়ে থাকলেও একাধিক বিভাগে পিছিয়ে ছিল সেলেকাওরা। ম্যাচের পর দলের রক্ষণ, মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় কোচ কার্লো আচেলত্তির দল গঠনও। দেখে নেওয়া যাক মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচের পর কোন কোন বিষয়ে নজর দিতে হবে ব্রাজিলকে। ডিফেন্সে সমন্বয়ের অভাব, যার খেসারত গোল হজম ঃ ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল ডিফেন্স। ম্যাচের ২১ মিনিটে ইসমাইল সাইবারির গোলটি আসে ডিফেন্সের ভুল থেকে। সেন্টার-ব্যাক গ্যাব্রিয়েল মাগালেস ও মার্কিনহোসের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি এবং গোলরক্ষক অ্যালিসনের আউটিং নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার সুযোগ নিয়ে সহজেই গোল করেন মরক্কোর এই মিডফিল্ডার। ম্যাচে বিপক্ষের দ্রুত আক্রমণ ও লং বল সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায় ব্রাজিলের ডিফেন্ডারদের। কে কাকে মার্ক করবেন কিংবা কখন এগিয়ে গিয়ে বল ক্লিয়ার করতে হবে, তা নিয়েও বিভ্রান্তি ছিল স্পষ্ট। শেষ মুহূর্তে অ্যালিসনের দুর্দান্ত ডাবল সেভ না থাকলে ম্যাচ হারতেও পারত ব্রাজিল। মরক্কোর হাই প্রেসিংয়ের সামনে অসহায় সেলেকাওরা ঃ মরক্কো শুরু থেকেই হাই প্রেসিং ফুটবল খেলে। প্রতিপক্ষের অর্ধে উঠে গিয়ে চাপ তৈরি করে তারা বারবার ব্রাজিলের ডিফেন্স ও মিডফিল্ডকে পিছনের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। বিশেষ করে ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল বের করতে গিয়ে একাধিকবার বিপদে পড়ে ব্রাজিল। বল হারানোর পর দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে মরক্কো এবং বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগও তৈরি করে। পরিসংখ্যানেও সেটা পরিষ্কার। ম্যাচে ব্রাজিলের চেয়ে বেশি শট (১৪ বনাম ১২) এবং বেশি এক্সপেক্টেড গোল (১.৫২ বনাম ১.২৩) তৈরি করেছে আফ্রিকান দলটি। অর্থাৎ কম সময় বল পায়ে রেখেও তারা বেশি কার্যকর আক্রমণ করতে পেরেছে। মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণ হারানো ঃ ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি নিজেও স্বীকার করেছেন যে তার দলের মিডফিল্ড বিপক্ষের চাপ সামলাতে পারেনি। কাসেমিরো, ব্রুনোদের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি বা সেটির রাশও নিজেদের হাতে নিতে পারেননি। মরক্কোর তরুণ মিডফিল্ডার আয়ুব বুয়াদ্দি বরং গোটা ম্যাচে উজ্জ্বল ছিলেন। মাঝমাঠের রাশ রাখলেন নিজের কাছে। শুরু থেকেই নার্ভাস ব্রাজিল ঃ বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী দেখা যায়নি ব্রাজিলকে। সহজ পাসে ভুল, বল ধরে রাখতে না পারা এবং আক্রমণ সাজাতে ব্যর্থতাÑসব মিলিয়ে ম্যাচের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। আনচেলত্তি ম্যাচ শেষে বলেন, ‘দলের মধ্যে চাপ ছিল। আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারিনি।’ সমানভাবে হতাশ ছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়রও। তার মতে, দল শুরুটা খুব খারাপ করেছে এবং এর ফলে বল ধরে রেখে ছন্দে খেলতে পারেনি। আক্রমণে ব্যক্তিনির্ভরতা, দলগত পারফরম্যান্সের অভাব ঃ বিশ্বমানের আক্রমণভাগ থাকা সত্ত্বেও ব্রাজিল দল হিসেবে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ম্যাচে তাদের কোনো ‘বিগ চান্স’ ছিল না বললেই চলে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ৩২ মিনিটের গোলটি ছিল মূলত তার ব্যক্তিগত দক্ষতার ফল। কিন্তু দলগত আক্রমণ দেখা যায়নি। মাত্র পাঁচটি শট লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে ব্রাজিল। স্ট্রাইকার ইগর থিয়াগোও ম্যাচে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফলে আক্রমণের ভার প্রায় পুরোপুরি ভিনিসিয়ুসের কাঁধেই এসে পড়ে। এটাই প্রমাণ করে দলগত পারফরম্যান্সের ছবি। এবারের ব্রাজিলে ব্যক্তিগত প্রতিভার অভাব নেই। এখন আনচেলত্তির কাছে চ্যালেঞ্জ এই প্রতিভাগুলোকে এক সুতোয় গাঁথার। তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দল আরও ভালো পারফরম্যান্স করবে।

