খেলাধুলা

হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল

প্রবাহ স্পোর্টস রিপোর্ট ঃ ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের শক্তির জানান দিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেল সেলেসাওরা। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ হাইতির বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে কেবল জয়ই পায়নি কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা, বরং উপহার দিয়েছে এক নান্দনিক ও আধিপত্যবাদী ফুটবল। ম্যাচে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘গ্রুপ সি’-র শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। দলের এই বড় জয়ের নায়ক জোড়া গোল করা মাতেউস কুনিয়া এবং সবকটি গোলেই সরাসরি অবদান রাখা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে এই আনন্দ উদযাপনের মাঝেই বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ফরোয়ার্ড রাফিনিয়ার হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি, যা প্রথমার্ধেই তাকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করে। ম্যাচের আগে স্কোয়াড নিয়ে কিছুটা রহস্য বজায় রাখলেও হাইতির বিপক্ষে একাদশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনেন কোচ আনচেলত্তি। ইবানেজের জায়গায় দানিলো এবং ইগর থিয়াগোর পরিবর্তে শুরু থেকেই মাঠে নামানো হয় মাতেউস কুনিয়াকে। ম্যাচে ব্রাজিলের রণকৌশল ছিল বেশ স্পষ্ট। বল যখন প্রতিপক্ষের পায়ে ছিল, তখন দল রক্ষণাত্মক ৪-৪-২ ফরমেশনে নিজেদের গুছিয়ে নেয়; যেখানে রাফিনিয়া ডান প্রান্তে এবং পাকেতা বাম প্রান্তে চলে যান। আর ভিনি ও কুনিয়াকে আক্রমণভাগের কেন্দ্রে রাখা হয় রক্ষণভাগের বাড়তি দায়িত্ব ছাড়াই। আবার বল দখলে এলে হাইতির পাঁচ জনের রক্ষণভাগ ভাঙতে ফরোয়ার্ডদের গতি ও কাট-ইন মুভমেন্ট ব্যবহার করে পেছনের ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগানোর ছক কষেন আনচেলত্তি। মাঝমাঠে হাইতিয়ান ফুটবলারদের কাছ থেকে দুবার বল কেড়ে নিয়ে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলে প্রথম জয়ের ভিত গড়ে ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে কুনিয়ার তৈরি করা সুযোগ থেকে। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার পর সেটি পান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ভিনি ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক একক প্রচেষ্টায় শট নিলে তা গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ফিরে আসে। আর রিবাউন্ড থেকে বল জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলের খাতা খোলেন ব্রাজিলের নতুন নাম্বার নাইন কুনিয়া। এর কিছুক্ষণ পরেই হাইতির খেলোয়াড়ের পা থেকে বল কেড়ে নেন প্রথম ম্যাচের চেয়ে ছন্দে ফেরা লুকাস পাকেতা। তিনি পাস বাড়ান ভিনির উদ্দেশে। এবার রিয়াল মাদ্রিদ তারকা নিজে শট না নিয়ে চমৎকার এক রক্ষণ-ভেদী পাসে বল বাড়িয়ে দেন কুনিয়ার দিকে। গোলরক্ষককে একা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই স্ট্রাইকার। ম্যাচ যখন ০-০ সমতায় ছিল, তখন রাফিনহার একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। শুরু থেকেই হাইতিয়ান ডিফেন্সকে তটস্থ করে রাখা এই বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়ার সংকেত দেন। কুনিয়া, ভিনি ও পাকেতাদের চিরচেনা ‘সার্ফার পোজ’ গোল উদযাপনের মাঝেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে রাফিনহার মাঠ ছাড়ার হতাশা। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধেই তার জায়গায় মাঠে নামানো হয় রায়ানকে। তবে এই ধাক্কার মাঝেও ব্রাজিলের আক্রমণ থামেনি। পাকেতার থ্রু পাস ধরে হাইতির ডিফেন্সের ফাঁক গলে এবং গোলরক্ষক প্লাসিদের ভুলের সুযোগ নিয়ে দলের তৃতীয় গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এটি চলতি বিশ্বকাপে রিয়াল তারকার দ্বিতীয় গোল। প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে ম্যাচ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল দলের খেলায় কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। কোচ আনচেলত্তি এ সময় বেঞ্চ থেকে রায়ান, এনদ্রিক, মার্তিনেল্লি, এদেরসন এবং দানিলো সান্তোসকে মাঠে নামান। নতুন নামা ফুটবলাররা বড় কোনো ভুল না করলেও দলের আক্রমণের ধার বাড়াতে পারেননি। হাইতি আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করায় কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডরা যথেষ্ট ফাঁকা জায়গা পেয়েছিল, কিন্তু ফাইনাল থার্ডে ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে ব্যবধান আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button