সম্পাদকীয়

তেল ক্রয়ে উন্মুক্ত বাজারের ওপর গুরুত্ব কাম্য

# খুলল ইরানের তেলের দুয়ার #

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নানামুখী নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল পেরিয়ে ইরানের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক বড় ধরনের অগ্রগতির খবর মিলেছে। ১৮ জুন সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী চুক্তির ধারাবাহিকতায় ইরানের জ্বালানি তেল রপ্তানির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে চলতি বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ইরানের অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য অবাধ বিক্রির পথ সুগম হলো। এর ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে; ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থেকে কমে প্রায় ৭৭ ডলারে নেমে এসেছে। বলা বাহুল্য, এ ঘটনা কেবল বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতিতেই স্বস্তি ফেরাচ্ছে না, বরং বাংলাদেশের মতো জ্বালানি সংকটে থাকা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। আমরা মনে করি, মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ বাংলাদেশ অত্যন্ত কার্যকরভাবে লুফে নিতে পারে। দেশ বর্তমানে তীব্র ডলার সংকট এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতিতে ভুগছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অনুকূল পরিস্থিতিকে তাই কাজে লাগানোর এখনই সময়। সেক্ষেত্রে পুরোনো নিয়ম ভেঙে আমাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতে আমূল সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একচেটিয়া আধিপত্য লক্ষ করা যায়, যা কৃত্রিমভাবে তেলের মূল্য বাড়িয়ে দেয় এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ইরানের তেল বিক্রির এই উন্মুক্ত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে এখন প্রথাগত সিন্ডিকেটের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক ‘ওপেন মার্কেট’ বা উন্মুক্ত বাজার থেকে সরাসরি ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে তেল কেনার সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। বিগত দিনের আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি পরিহার করে এখনই একটি উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত সেল গঠন করা দরকার, যা বিশ্ববাজারের এই দরপতন এবং ইরানি তেলের লভ্যতা পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। উন্মুক্ত বাজার থেকে সরাসরি তেল কেনা সম্ভব হলে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে দেশের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ খাতে কম মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতা চিরস্থায়ী নাও হতে পারে; তাই সময় নষ্ট না করে এই কূটনৈতিক সুযোগের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সুফল বাংলাদেশ যেন ঘরে তুলতে পারে, সেই পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button