জাতীয় সংবাদ

বৃষ্টির পানিতে ডুবল সড়ক-ঘরবাড়ি, চরম ভোগান্তিতে সাতক্ষীরাবাসী

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ টানা কয়েক দিনের বর্ষণে সাতক্ষীরা পৌরসভার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক, অলিগলি ও বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, শিশু, নারী ও বয়স্করা। জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। শুক্রবার (১০ জুলাই) শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাটিয়া মাঠপাড়া, কামালনগর, পলাশপোল, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ মোড়, সুলতানপুর মাছখোলাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ড্রেন দিয়ে পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় বহু বাড়ির উঠান, রান্নাঘর ও কক্ষেও পানি ঢুকে পড়েছে। সরকারি কলেজ মোড় এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কলেজ মোড় থেকে মাছখোলা পর্যন্ত পুরো সড়ক পানির নিচে। হেঁটে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক ঠিকমতো চলতে পারছে না। প্রতি বছর বৃষ্টি হলেই এমন অবস্থা হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতক্ষীরা পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অপর্যাপ্ত। অনেক ড্রেন ভরাট হয়ে গেছে, আবার কোথাও ড্রেনের ধারণক্ষমতা কম। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, আর টানা বর্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
জলাবদ্ধতার কারণে দিনমজুর, রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকচালকদের আয় কমে গেছে। অনেকেই সারা দিন কাজ করতে না পেরে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্নব দত্ত বলেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন খাল ও নদী পুনঃখননের কাজ চলছে। ফলে আমি মনে করি, এবার হয়তো শহরের জলাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি শহরের স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হবে এবং প্রাণসায়ের খালে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে শহরের সব ড্রেন সচল করে ওই খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এসব কাজ বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করছি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তাই নগরবাসীকে এ দুর্ভোগ থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি দিতে দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button