ফেসবুকে পণ্যের ফাঁদ, অগ্রিম টাকা নিয়ে উধাও

# ছয় মাসে শতাধিক ক্রেতাকে টার্গেটের অভিযোগ, ৩ এপিবিএনের অভিযানে বাগেরহাট থেকে চক্রের মূল হোতা গ্রেফতার #
খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি ঃ ফেসবুকে আকর্ষণীয় দামে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন। ক্রেতা অর্ডার দিলেই অগ্রিম টাকা বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধের নির্দেশ। টাকা হাতে পাওয়ার পর আর কোনো পণ্য নয়Ñবরং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, নম্বর বন্ধ কিংবা একের পর এক অজুহাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে পুঁজি করে এভাবেই গড়ে উঠেছে অনলাইন প্রতারণার নতুন এক সিন্ডিকেট। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের পর এমন একটি চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে ৩ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), খুলনার সাইবার ক্রাইম ইউনিট। ৩ এপিবিএন সূত্র জানায়, অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি এম. এম. সালাহউদ্দীনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় অপস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স শাখার সাইবার ক্রাইম ইউনিট গত ৯ জুলাই বাগেরহাট সদর উপজেলার কালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে সৌরভ শেখ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। তিনি ওই গ্রামের খায়ের শেখের ছেলে। অভিযানে তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন, মোট সাতটি সিম কার্ড (তিনটি আলাদা ও চারটি মোবাইলে ব্যবহৃত) এবং নগদ ৩ হাজার ৯০০ টাকা জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো বিশ্লেষণ করে প্রতারণার নেটওয়ার্ক, ভুক্তভোগীর সংখ্যা এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৌরভ স্বীকার করেছে, সে প্রায় ছয় মাস ধরে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। ফেসবুকে একটি পেজ পরিচালনা করে বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন দিত। ক্রেতারা অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করার পর পণ্য সরবরাহ না করে বিভিন্ন কৌশলে সময়ক্ষেপণ করত এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দিত। এভাবেই সে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে জানিয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন প্রতারণা এখন বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়; বরং এটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের রূপ নিচ্ছে। প্রতারকরা ভুয়া পরিচয়, একাধিক সিম, একাধিক মোবাইল ফোন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত পেজ ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করে। তাই এসব অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের গুরুত্ব বাড়ছে। এঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শিরোমনিতে অবস্থিত ৩ এপিবিএন, খুলনার সাইবার ক্রাইম ইউনিট সাম্প্রতিক সময়ে চুরি বা হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে ধারাবাহিক সাফল্য দেখিয়ে আসছে। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় প্রতারণা চক্র শনাক্ত ও গ্রেফতারে ইউনিটটির তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।



