‘আল্লাহর চেয়ে বড় আর্টিস্ট কে’ এআই ছবির বিষয়ে কনকচাঁপার

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ চলমান এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গায়িকা রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। সম্প্রতি এই কণ্ঠশিল্পীর ছবি এআই দিয়ে পরিবর্তন করে অনেকে পোস্ট করছে। বিষয়টি নজরে এসেছে শিল্পীর। এরপরেই বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ কনকচাঁপা ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ বার্তায় প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি দিলেন হুঁশিয়ারি। কনকচাঁপা লেখেন, ইদানিং দেখছি এআই দিয়ে আমার ছবি, এমনকি ভিডিও-ও বানাচ্ছেন আপনারা! কেউ কেউ এমনিতেই, কেউ বানিজ্যিক উদ্দেশ্য নিয়ে। পুরো ব্যাপারটাতেই আমি বিব্রত। আমার নিজের ইচ্ছা হলে আমি নিজে বানাব, সেটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিরুচির ব্যাপার। কিন্তু আগ বাড়িয়ে আপনারা কেন? বাস্তব আমাকে আর ভালো লাগছে না? শ্রোতাপ্রিয় এই শিল্পীর ভাষ্য, এআই যতই করুক, যতই পারুক, কখনও আসল মানুষকে তুলে ধরতে পারে না। তাকে ঝকঝকে তকতকে করে দেয়। কিন্তু জুম করে দেখলে দেখবেন, ছবির মানুষের চোখ আসলে তার চোখ নয়। যা কিনা দেখতে ভয়ংকর। একটা মানুষের আঙ্গুলের ছাপও যেমন অনবদ্য, তেমন চোখের দৃষ্টিও একদম নিজস্ব। আমার যথেষ্টই ছবি (দরকারি অদরকারি) রয়েছে। তাকে আবারও কেন এআই দিয়ে সাজাতে হবে! আমি আমার অবয়ব নিয়ে যথেষ্ট সন্তুষ্ট। আল্লাহর চেয়ে বড় আর্টিস্ট আর কে আছেন! কনকচাঁপা জানান, নিজের চেহারা নিয়ে তার অস্বস্তি-আপত্তি নেই, তাহলে অন্যদের অসুবিধা হওয়ার কোনো মানে নেই। তার মতে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে অনেক ভালো কাজ করা যায়, অথচ বাংলাদেশের মানুষ পড়ে রয়েছে ছবি এডিট নিয়ে। এরপর হুঁশিয়ারি দিয়ে কনকচাঁপা লেখেন, এমন চললে ফেসবুক ছেড়ে চলে যাব। কী হবে! অল্প কিছুদিন অস্থির লাগবে, তারপর ঠিক হয়ে যাবে। তাও দর্পণে নিজের বদলে অন্য কাউকে দেখতে চাই না। একদম চাইনি। বস্তুত এআইকে আমি ভীষণ অপছন্দ করি। তার চেয়েও অপছন্দের এআই ভিডিও। কী ভয়ানক! মৃত মানুষও কথা বলে! সবশেষ তিনি বলেন, যাইহোক, জীবনে কোনোদিন পার্লারে সাজলাম না, বোটক্সের দ্বারস্থ হলাম না, না প্ল্যাক করলাম ভ্রু, না আইল্যাশ লাগালাম, না হেয়ার এক্সটেনশন করলাম; সেই আমি এআই দিয়ে বিকৃত করা উপস্থিতি দেখতে চাই না একদম। আমি ‘আমার আমি’কে খুবই ভালোবাসি।



