কক্সবাজারে একের পর এক পর্যটকের মৃত্যুর জন্য অব্যবস্থাপনা দায়ী

কক্সবাজারে একের পর এক পর্যটকের মৃত্যু, হতাহতের ঘটনা, হয়রানি আমাদের পর্যটনশিল্পের সামগ্রিক অব্যবস্থাপনাকেই সামনে নিয়ে আসে। সর্বশেষ গত শনিবার মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিংয়ের সময় সাগরে পড়ে এক পর্যটক মারা গেছেন। অথচ প্রশাসনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং পরিচালনার কোনো অনুমোদন নেই। প্রশ্ন হলো, প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের কর্মকা- চলছে কী করে? কালের নিহত সৌভিক রায়সহ (৩১) ৯ যুবক খুলনা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। শনিবার বন্ধুদের সঙ্গে দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের প্রস্তুতি নেন সৌভিক। প্যারাসেইলিং ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট ওঠার পর হঠাৎ তিনি বঙ্গোপসাগরে ছিটকে পড়েন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, দুর্ঘটনার সময় আশপাশে কোনো উদ্ধার অভিযানের ব্যবস্থা ছিল না। জানা গেছে, এই একটি প্রতিষ্ঠানই নয়, ওই এলাকায় পাঁচটি প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন থেকে অনুমতি ছাড়াই কর্মকা- পরিচালনা করে আসছে। কক্সবাজারে প্যারাসেইলিংয়ে দুর্ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের ২০ মে দরিয়ানগরে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে এক পর্যটক সমুদ্রে পড়ে আহত হন। একই বছরের ৩০ আগস্ট এক নারী পর্যটক প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে ঝাউবাগানে পড়ে গাছের ডগায় আটকে ছিলেন দীর্ঘ সময়। চলতি বছরের ১৬ জুন রশি ছিঁড়ে আরেক পর্যটক সমুদ্রে পড়ে যান। এর পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে না। শুধু প্যারাসেইলিং নয়, দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই সৈকতে নেমে পর্যটকের মৃত্যুর খবর আসে। সি-সেফ লাইফগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ বছরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ জুলাই কলাতলী সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন পর্যটক হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর সৈকতে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। যথাযথ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা নিশ্চিত করা হলে শুধু দেশের নয়, কক্সবাজার হতে পারে বিশ্বের পর্যটকদের কাছেও পছন্দের গন্তব্য। আমরা মনে করি, কক্সবাজারকে পর্যটকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধে প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
