আর্থিক অনিয়মের দায়ে দুই সাবেক ফুটবল প্রধানকে আজীবন নিষিদ্ধ করল ফিফা

প্রবাহ স্পোর্টস ডেস্ক ঃ আর্থিক অনিয়ম ও ফিফার তহবিল অপব্যবহারের দায়ে দুই সাবেক ফুটবল ফেডারেশন সভাপতিকে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তাদের একজন ক্যারিবীয় অঞ্চলের বহুল আলোচিত নির্বাচনী ঘুষ কেলেঙ্কারিতে ২০১১ সালে ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েও দীর্ঘদিন মন্টসেরাট ফুটবল ফেডারেশনের নেতৃত্বে ছিলেন। মন্টসেরাট ফুটবল ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের সভাপতি ভিনসেন্ট ক্যাসেলকে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, পদ্ধতিগত স্বার্থের সংঘাত’ এবং ফিফা ও ফেডারেশনের অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে ফিফার বিচারিক কমিটি। অন্যদিকে মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি বাসাম আদিল জালিলকেও আজীবন ফুটবল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ফিফার কোভিড-১৯ ত্রাণ তহবিলের অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করেছেন তিনি। করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালে ফিফা জানিয়েছিল, ফুটবলের জন্য অনুদান ও ঋণ হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫০ কোটি ডলার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফার ১২ লাখ ডলার আত্মসাতের দায়ে চলতি বছর জালিলকে ২৩ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। স্থানীয় ফুটবল ক্লাবগুলোর জন্য বরাদ্দ ওই অর্থ দিয়ে তিনি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ক্যাসেল ও মন্টসেরাট ফুটবল ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক টান্ডিকা হিউজ চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটির একটি আদালতে কর ফাঁকির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। ২০১১ সালে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগেও ক্যাসেল ও হিউজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছিল ফিফার তৎকালীন নৈতিকতা কমিটি। কাতারের মোহাম্মদ বিন হাম্মাম সে সময় সেপ ব্লাটারকে হারিয়ে ফিফা সভাপতি হওয়ার নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। ওই প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে ক্যারিবীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের ৪০ হাজার ডলার নগদ অর্থ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে নিষেধাজ্ঞার পরও ক্যাসেল ও হিউজ মন্টসেরাট ফুটবল ফেডারেশন পরিচালনা করে যান। ফিফার বিশ্বকাপ থেকে পাওয়া অর্থের অন্তত ২০ লাখ ডলার প্রতি বছর পাওয়ার অধিকার রয়েছে দেশটির ফেডারেশনের। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্যাসেল ও হিউজ সরে যাওয়ার পর মন্টসেরাট ফুটবলের দায়িত্বে জরুরি ব্যবস্থাপনা দল নিয়োগ করে ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছিল, ‘ব্যতিক্রমী সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক অচলাবস্থার’ কারণে ফেডারেশনের দৈনন্দিন কার্যক্রমে তাদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়েছে। হিউজকে ১৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। তার বিরুদ্ধে অনিয়মিত লেনদেন থেকে সুবিধা নেওয়া ও তা সহজতর করা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ক্যাসেলের বিরুদ্ধে ফেডারেশনের কর্মীদের ‘শারীরিক ও মানসিক অখ-তাকে প্রভাবিত করে এমন আচরণের’ অভিযোগও আনা হয়। তাকে ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হলেও ফিফা এই অর্থ কীভাবে আদায় করবে, তা স্পষ্ট নয়। হিউজকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। মালদ্বীপের জালিলকেও ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে ফিফা। ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার দুই বছরেরও বেশি সময় পর তার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো। মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ আগিলকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ এবং ১ লাখ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, ফিফার তহবিলের অপব্যবহার সহজতর ও গোপন করা, জাল নথি ব্যবহার এবং নৈতিকতা তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগ ছিল আগিলের বিরুদ্ধে। গত বছর মালদ্বীপ সফরে গিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সে সময় এক বিবৃতিতে তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালদ্বীপের ফুটবল যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে, তা স্বীকার করেছিলেন। ক্যাসেল ও জালিল দুজনই ২০১৬ সালে নিজেদের ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন, যে বছর ইনফান্তিনোও ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের বছর বাহরাইনে ফিফা কংগ্রেসে দুজনই নিজ নিজ ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে ইনফান্তিনো দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এই কক্ষে বা এর বাইরে কেউ যদি এখনো মনে করে সে নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারবে, ফুটবলের অপব্যবহার করতে পারবে, তার জন্য আমার একটি স্পষ্ট ও শক্ত বার্তা আছে: ফুটবল ছাড়–ন, এখনই ফুটবল ছাড়–ন।’



