জাতীয় সংবাদ

যৌথ ঘোষণায় চূড়ান্ত ঐকমত্য: ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা

# ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ২০২৬ #

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে ঐতিহাসিক ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করেছেন জোটের নেতারা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সম্মেলনের সভাপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে তৈরি ‘ব্রিকস নিউ দিল্লি ডিক্লারেশন’ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। ঘোষণাপত্রে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে ‘সংলাপ ও কূটনীতিকেই’ একমাত্র পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও রয়টার্স জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে যৌথ ঘোষণার ভাষা নির্ধারণে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সংশয় দেখা দেয়। তবে টানা কয়েক দিনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত উভয় দেশ একই ভাষায় সম্মত হয়। মে মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে মতপার্থক্যের কারণে যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি; ফলে এবার সবাইকে এক ছাতার নিচে আনতে পারাকে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) কাঠামোগত পরিবর্তনসহ বৈশ্বিক বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জরুরি সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও ডব্লিউটিও-র মতো সংস্থায় পশ্চিমা প্রভাব কমিয়ে সংস্কারের আহ্বান জানান নেতারা। এ সময় নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া সংস্থাটিতে আরও বড় ভূমিকা পালনে ব্রাজিল ও ভারতের আকাক্সক্ষার প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। এছাড়া যেকোনো রূপের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করা হয় ঘোষণায়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে নিরাপদ বাণিজ্য পরিচালনা এবং নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছে জোটটি। বাণিজ্য বাড়াতে শুল্ক কমানো ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্রিকসের প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়টিও এতে স্থান পায়। এবারের সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বিশ্ব জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button