প্রেমের টানে বরিশালে চীনা যুবক

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ প্রেমের টানে বাংলাদেশে এসে বরিশালের বাকেরগঞ্জের এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনের এক যুবক। জানা গেছে, ওই চীনা যুবকের নাম জিয়াং (৩৫)। তিনি চীনের জিয়াংসি প্রদেশের ইছুন শহরের বাসিন্দা। জান্নাতুল ইসলাম ইভা নামের ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় দেড় বছর মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্কের পর বাংলাদেশে আসেন তিনি। পরে ধর্ম পরিবর্তন করে আইন অনুযায়ী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে অ্যাফিডেভিট করেন জিয়াং। এরপর রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে ইভাকে বিয়ে করেন তিনি। জান্নাতুল ইসলাম ইভা বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের ফলাঘর গ্রামের জাকির হাওলাদারের মেয়ে। ইভা জানান, ২০২৪ সালে মোবাইল ফোন কেনার জন্য ঢাকায় যান তিনি। সেখানে তিনজন চীনা নাগরিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে মার্কেটে তাদের সঙ্গে কফি খাওয়ার সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা তাকে চীনা যুবক জিয়াংয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ইউচ্যাটের মাধ্যমে জিয়াংয়ের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একসময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় দেড় বছর ধরে তাদের এ সম্পর্ক চলার পর গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশে আসেন জিয়াং। ওইদিনই ইভার সঙ্গে তার প্রথম সরাসরি দেখা হয়। পরদিন ৪ আগস্ট আইন অনুযায়ী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তনের অ্যাফিডেভিট করেন জিয়াং। পরে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে ইভার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ইভা জানান, বিয়ের পর কিছুদিন জিয়াংকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় থেকে বাবার গ্রামের বাড়ি বাকেরগঞ্জে এসেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তাদের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজের পর পারিবারিকভাবে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, জিয়াং গ্রাম খুব পছন্দ করেন। বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের ইচ্ছে ছিল আমার বিয়েতে বড় আয়োজন করার। তাই গ্রামে এসে আয়োজন করেই বিয়ের অনুষ্ঠান করা হয়েছে। জিয়াং আমাকে অনেক ভালোবাসেন। স্বামী হিসেবে তার প্রতিও আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। জিয়াংয়ের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করেন এমন প্রশ্নে ইভা বলেন, ‘ওর ভাষা আমি অল্প অল্প বুঝি। বাকিটা অ্যাপসের মাধ্যমে কথা বলি। সে আমাদের পরিবারের সবার সঙ্গে খুব সুন্দর ব্যবহার করছে। আমাদের দেশীয় খাবার ও এলাকার পরিবেশও তার বেশ পছন্দ হয়েছে।’ অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে জিয়াং জানান, ইউচ্যাটের মাধ্যমে ইভার সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন এবং তাকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে চীনে নিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি। ইভার বাবা জাকির হাওলাদার বলেন, ‘জামাই হিসেবে তাকে আমরা মেনে নিয়েছি। এক মাসেরও বেশি সময় হয়েছে জিয়াং বাংলাদেশে এসেছে। আমার মেয়ের পাসপোর্ট তৈরির কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কিছুদিন পরেই সে আমার মেয়ে ইভাকে নিয়ে চীনে ফিরে যাবে।’ এদিকে, চীনা নাগরিক জিয়াংয়ের বাংলাদেশে অবস্থান ও বিয়ের বিষয়টি স্থানীয় থানা পুলিশ আগে অবগত ছিল না বলে জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন। তিনি বলেন, ‘চীনা নাগরিক জিয়াং সম্পর্কে আমরা অবগত নই। তিনি বৈধ পাসপোর্টে বাংলাদেশে এসেছেন কি না এবং এ অঞ্চলের এক নারীকে বিয়ে করেছেন কি না বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।’


