আন্তর্জাতিক

ফের যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক সিজেপির

প্রবাহ রিপোর্ট ঃ ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা কর্মসূচি ঘিরে শনিবারের ব্যাপক আটকের ঘটনায় দমে যায়নি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় যন্তর মন্তরে ফের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ‘ভোট চুরি’ ও ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে ‘যোগসাজশের’ অভিযোগে পদত্যাগ না করা অথবা বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিদিন মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। সিজেপির জাতীয় সাংগঠনিক ইন-চার্জ অজিঙ্ক শিন্ডে বলেন, সরকার হয়তো ভেবেছিল আটকের পর আমরা বাড়িতে ফিরে যাব। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের এই ভয়ই প্রমাণ করে, আমরা অর্ধেক লড়াইয়ে জয়ী হয়েছি। উল্লেখ্য, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ দলটির শীর্ষ নেতারা আটক থাকায় শিন্ডে এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শনিবার বিক্ষোভস্থলে জড়ো হওয়ার সিজেপির আহ্বানের পর দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশি ধরপাকড়ে অন্তত ৩,০০০ মানুষকে আটক করা হয় ও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। সিজেপির নেতারা ‘নিরীহ বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস নির্যাতনে’র তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা জানান, বিমানটি দিল্লি পৌঁছানোর পর প্রায় বেলা ১১টার দিকে পুলিশ যখন তাদের আটক করে, তারপর থেকে দীপকেসহ অন্যদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা তারা জানেন না। তারা আরও জানান, দীপকের সঙ্গে ‘অমানবিক’ আচরণ করা হচ্ছে এবং মহারাষ্ট্রের নিজ শহরে তার দাদীর শেষকৃত্যে যাওয়ার জন্য তাকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অজিঙ্ক শিন্ডে বলেন, সিইসি হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত না করা পর্যন্ত এখন থেকে প্রতিদিন যন্তর মন্তরে মিছিল করা হবে। স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (এসএফআই) সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে এই ‘স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ঐক্য গড়ে তোলার’ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন কোনায় ছাত্রদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়বে। তারা সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাবে এবং পুলিশ যেখানেই ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেবে, সেই এলাকাটিই একটি ‘যন্তর মন্তরে’ পরিণত হবে। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট সোমবার একটি বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার জোটের নেতারা সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দেবেন। এর আগে শুক্রবার এই জোটের পক্ষ থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়, যাতে চারটি দাবি জানানো হয়েছে– কুমারের পদত্যাগ এবং সিইসি ও নির্বাচন কমিশনারদের আজীবন দায়মুক্তি প্রদানকারী ২০২৩ সালের আইন বাতিল; ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) অবিলম্বে স্থগিত করা এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩.৩ কোটি ভোটারকে পুনর্বহাল করা; সব নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ফিরে যাওয়া এবং গত দুই বছরে অনুষ্ঠিত সমস্ত বিধানসভা নির্বাচন বাতিল করা ‘যেগুলোতে ভোট চুরির চূড়ান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে’। শনিবার দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন– আম আদমি পার্টির (আপ) অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামেদের পিনরাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। সিজেপি নেতা আশুতোষ রঙ্কা ও সৌরভ দাসের সঙ্গে দীপকেও আটক করা হয়েছিল। হেফাজতে থাকা অবস্থায় মহারাষ্ট্রে নিজ শহরে তার দাদী মারা যান। সিজেপির কর্মসূচি ঘিরে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত ২৫,০০০ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল, দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা হয়েছিল, ২৫০টিরও বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল এবং যন্তর মন্তরের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছিল। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, নারী ও প্রবীণ নাগরিকদের প্রথমে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, তবে রোববারেও এই মোতায়েন বজায় থাকবে। চেন্নাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে থাকা রাহুল গান্ধী এক্সে লিখেছেন: ‘সব নেতাদের গ্রেপ্তার করুন। সব তরুণ-যুবকদের গ্রেপ্তার করুন। আমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করুন। আমরা আপনাদের ঘিরে ফেলছি এবং আমরা পিছু হটব না… ভারতের যুবসমাজ, আমি তোমাদের নিয়ে গর্বিত। প্রতিবাদ চালিয়ে যাও।’ আটক হওয়ার আগে কেজরিওয়াল বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মোদী জি আপনাদের যেখানেই আটকে দেবেন, সেখানেই বসে পড়বেন। সেই জায়গাটিকে যন্তর মন্তরে পরিণত করবেন।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পরিস্থিতি ‘জরুরি অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে, এটি একটি সুপার ইমার্জেন্সিতে পরিণত হয়েছে।’ বিজেপির মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ জ্ঞানেশ কুমার ও এসআইআরের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। একটি প্রেস কনফারেন্সে তিনি বলেন, প্রথমত, ভারতীয় গণতন্ত্র নৈরাজ্য তৈরির প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, দেশ রাজপথ দিয়ে নয়, সংসদ দ্বারা পরিচালিত হবে। মুম্বাইতে সংহতি প্রকাশ করে আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে প্রতিবাদ জানানো প্রায় ২০০ জনকে পুলিশ আটক করে, যার মধ্যে মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী এবং অভিনেতা ইমরান খানও ছিলেন। আহমেদাবাদ ও চেন্নাইসহ অন্যান্য জায়গাতেও বিক্ষোভ ও আটকের খবর পাওয়া গেছে। সূত্র: এনডিটিভি।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button