সম্পাদকীয়

মূল্যস্ফীতির প্রভাব পড়ছে সংসারে

আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনে আজ সবচেয়ে বড় সংকট হলো মূল্যস্ফীতি। বাজারে গেলে প্রতিদিনই নতুন ধাক্কা খেতে হয়-চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন লাগামছাড়া ঘোড়ার মতো ছুটছে। মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো, যারা একসময় সামান্য সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে পারত, তারা এখন মাসের শেষে সংসার চালানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির প্রভাব শুধু অর্থনীতির পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সামাজিক অভিঘাতও গভীর। সংসারের বাজেট ভেঙে পড়লে প্রথম আঘাত আসে খাদ্যাভ্যাসে। মানুষ কম খেতে শুরু করে, পুষ্টির ঘাটতি বাড়ে। শিশুদের পড়াশোনার খরচ কমে যায়, স্বাস্থ্যসেবায় কাটছাঁট হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে একটি প্রজন্মের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা মানে হলো আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা। আয় বাড়ছে না, অথচ ব্যয় প্রতিদিন বাড়ছে। এর ফলে সঞ্চয় শূন্য হয়ে যাচ্ছে, বিনিয়োগে আগ্রহ কমছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর। তবে প্রশ্ন হলো-সমাধান কোথায়? প্রথমত, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে হবে। অযৌক্তিক মজুতদারি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রণোদনা ও ভর্তুকি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশীয় উৎপাদন দিয়ে চাহিদা পূরণ করা যায়। তৃতীয়ত, সাধারণ মানুষের আয় বাড়ানোর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মজুরি কাঠামোতে সংস্কার জরুরি। আমাদের মতামত হলো, মূল্যস্ফীতি শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক স্থিতিশীলতারও প্রশ্ন। যখন মানুষ ন্যূনতম চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন হতাশা ও ক্ষোভ জন্ম নেয়। তাই সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। সংসারের চাপ কমাতে শুধু নীতিগত পদক্ষেপই নয়, সামাজিক সংহতিও জরুরি। ধনী-গরিবের ব্যবধান কমাতে ন্যায়সঙ্গত করনীতি, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হবে। অন্যথায় মূল্যস্ফীতির চাপ গোটা সমাজকে অস্থির করে তুলবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা মানে মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা বাড়ানো। সংসারের চাপ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব হলো মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button