কঠোরভাবে মোকাবেলা করুন

# আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি #
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ করা যাচ্ছে। পত্রপত্রিকায় প্রায় প্রতিদিনই খুনখারাবি, হানাহানির খবর আসছে। কিছুদিন থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর রীতিমতো উদ্বেগের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্ধ্যার পর যে কেউ মোহাম্মদপুরের রাস্তায় চলাচলে আতঙ্ক বোধ করে। গতকাল কালের প্রবাহ’র খবরে দেখা গেছে, নরসিংদীতে ফিল্মি স্টাইলে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। কারাগার থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র পেয়ে সন্ত্রাসীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। অন্যদিকে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় একজনকে হত্যা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে বিপুলসংখ্যক অস্ত্র লুট করা হয়।
এসব অস্ত্রের কিছু উদ্ধার করা হলেও একটি অংশ এখনো সন্ত্রাসীদের হাতেই রয়ে গেছে। জানা গেছে, এসব অস্ত্র দিয়ে প্রায় ২০০ সন্ত্রাসীর প্রশিক্ষিত বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে। এরাই এলাকায় প্রভাব বিস্তার, মেঘনা নদীর বালু উত্তোলন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসা ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের খুনাখুনিতে জড়িত থাকার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কয়েকজনের অস্ত্রসহ ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামও জানাজানি হয়। হতাশার বিষয় হলো, তার পরও সন্ত্রাসীরা দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। বরং খবরে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীর খাতায় নাম থাকার পরও কেউ কেউ ইউপি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন! সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার চিত্র আরো উদ্বেগজনক। খবরে বলা হয়েছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাড়ে তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪৩ জন। এই সময়ের মধ্যে ৬৫০টি ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মী। নিহতদের মধ্যে ২৮ জন বিএনপির, চারজন জামায়াতের নেতাকর্মী। সম্প্রতি কয়েকটি শিক্ষাঙ্গনেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। এসবের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ, অন্তঃকোন্দল ও আধিপত্য বিস্তার কাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ আমাদের অজানা নয়। বিচারহীনতা, আইনের দীর্ঘসূত্রতা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঢিলেঢালা ভাবÑএ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনে অভাব-অনটন, হতাশা থেকে অনেকে অপরাধের দিকে পা বাড়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও সংঘবদ্ধ আক্রমণের (মব) ঘটনা। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন আজ চরম অনিরাপদ। আমরা মনে করি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সরকারের কঠোর বার্তা সর্বত্র পৌঁছে দিতে হবে। এটি প্রমাণ করতে হবে, আইনের চোখে সবাই সমান। সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে, যেন তারা স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারে।
