সম্পাদকীয়

বৈদ্যুতিক যানের সুদিন আসুক

# ইভিতে সাশ্রয়, পরিবেশেও স্বস্তি #

বিশ্বব্যাপী ফুরিয়ে আসছে জীবাশ্ম জ্বালানি। প্রাকৃতিক উৎসনির্ভর জ্বালানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পৃথিবীতে যুদ্ধবিগ্রহ কম হয়নি। এর সঙ্গে রয়েছে সীমাহীন দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মতো ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক। জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে মানুষের অস্তিত্ব আজ প্রায় বিপন্ন। সব দিক বিবেচনায় জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমানো এখন সময়ের দাবি। এ ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) হতে পারে নতুন অধ্যায়। এ নিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠ বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বৈদ্যুতিক গাড়ির সুবিধা, আমাদের দেশে এর সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতাসহ নানা প্রয়োজনীয় দিক তুলে ধরা হয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ির অন্যতম সুবিধা হলো আর্থিক সাশ্রয়। তেলচালিত গাড়িতে যেখানে কিলোমিটারপ্রতি খরচ হয় তিন থেকে ১৬ টাকা, সেখানে ইভির খরচ মাত্র ৪০ পয়সা থেকে তিন টাকা। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আমরা দেখছি, বিশ্বে তেলের বাজার কতটা অস্থির। এক হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় গোটা বিশ্বই বিপাকে পড়েছে। বাংলাদেশে এই সংকট তুলনামূলক আরো প্রকট হয়েছে। এ ধরনের সংকট থেকে উত্তরণের পন্থা হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ির কথা ভাবা হচ্ছে। ঢাকার মতো জনাকীর্ণ শহরে পরিবেশদূষণ বড় সমস্যা। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ইভির ব্যবহার একটি শহরকে বদলে দিতে পারে। এসব যানবাহন কার্বন নির্গমন করে না, আবার শব্দও নেই। তাই কালো ধোঁয়া ও শব্দদূষণ দুটির হাত থেকেই সুরক্ষা মেলে। এসব বিবেচনায় ইলুপ মোটরসের সিইও ও পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ যথার্থই বলেছেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য ইলেকট্রিক বাহনের বিকল্প নেই। সেটি হোক টু-হুইলার অথবা ফোর-হুইলার।’ অনেক দেশেই ইভির প্রচলন বাড়ছে। বাংলাদেশেও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সম্ভাবনা আজও অধরাই রয়ে গেছে। বিশেষ করে উচ্চ শুল্কহার, পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশনের অভাব ও পার্টসের সংকট রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ধীরে ধীরে দেশের বাজারও বড় হচ্ছে। সবচেয়ে আশার কথা হলো, বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি হচ্ছে খোদ বাংলাদেশেই। আমরা মনে করি, দেশে ইভি শিল্প বিকাশে সুষ্ঠু নীতিমালা ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। শুল্কহার যৌক্তিক পর্যায়ে কমাতে হবে। চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং সেন্টারসহ এ খাতে প্রযুক্তির প্রসার হলে অনেক কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং অর্থনীতিতেও সুদিন আসবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button