সম্পাদকীয়

শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণœ রাখুন

# পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিরতা #

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ সন্তোষজনক নয়। উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা নিত্যদিনের চিত্র। চর দখলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের হল দখলের খবর প্রায়ই আমাদের সামনে আসে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসনকাঠামো। সবকিছু দেখে মনে হতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের জায়গা নয়, ক্ষমতাচর্চার কেন্দ্র মাত্র। এর মাশুলও আমরা কম দিচ্ছি না। উচ্চশিক্ষার মান একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ সংখ্যার দিক থেকে আমরা পিছিয়ে নেই। দেশে এখন অনুমোদিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৭। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল দেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগসহ নানা দাবিতে চলছে আন্দোলন। এর মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি অপসারণের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিজেদের পদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকা-ে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগাতে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগেই রয়েছে, যার সমাধান ভিসির হাতে নেই। আবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেখভাল করার জন্য যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) রয়েছে, তারাও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না। জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিন মাসে অন্তত আটটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং ইউজিসির চেয়ারম্যান পরিবর্তন করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রায় দেড় ডজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তনে কাজ চলছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ বা পরিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে কোনো দাবিকে কেন্দ্র করে শিক্ষকরা ক্লাস বন্ধ রাখতে পারেন না। উচ্চশিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিপূর্ণ জ্ঞানের বিকাশ। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সব ধরনের আয়োজন থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁদের গবেষণার মধ্য দিয়ে জাতির সামনে উন্মোচিত হবে নতুন সম্ভাবনা। কিন্তু দেশের বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হবেন শিক্ষার্থীদের সামনে আলোকবর্তিকা, অনুকরণীয় মানুষ। তিক্ত বাস্তবতা হলো, অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার চেয়ে প্রশাসনিক উচ্চপদের দিকে বেশি ঝুঁকে থাকেন। খবরে বলা হয়েছে, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০টি প্রশাসনিক পদ রয়েছে। এসব পদ নিয়ে প্রতিনিয়ত চলে টানাটানি। দেখা যাচ্ছে, যেকোনো বিরূপ পরিস্থিতিতে প্রথমেই যেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তা হলো পড়ালেখা। দাবি আদায়ের একমাত্র কৌশল হিসেবে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়। এই প্রবণতা থেকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষার পরিবেশ অক্ষুণœ রাখতে হবে। ইউজিসি যেন সুষ্ঠুভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনীতি যেন কোনোভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না করে, এ ব্যাপারে সরকারকেও আন্তরিক হতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button