‘প্রতিটি হত্যাকা-ের বিচার দ্রুততম সময়ে করতে হবে’

বৈষম্যহীন সমাজ ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রত্যাশা সামনে রেখে গত বুধবার পালিত হলো ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’। এদিন রাজধানীর শেরেবাংলানগরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন শেষে ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। দুই বছরের মাথায় এসে জুলাই আন্দোলনে অংশীদারি নিয়ে সমাজে আজ যখন নানা দ্বন্দ্ব ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।’ তিনি আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা হতাহত হয়েছেন, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে প্রতিটি হত্যাকা-ের বিচার হবে।’ তারেক রহমান সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমি এই অনুষ্ঠানে একটি বিষয়ে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা শুরু করেছে। এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত পরাজিত পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কি না, সেটি ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের।’ আমাদের মনে রাখা দরকার, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল বছরের পর বছর ধরে জমা হওয়া গণতন্ত্রহীনতা, বাকস্বাধীনতা হরণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ। এই আন্দোলনে শত শত তরুণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। হাজারো আহতের ক্ষত এখনো শুকায়নি। এ অবস্থায় দুই বছর পর এসে আন্দোলনের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে কিছু অসন্তোষ থাকতে পারে। তাই বলে জুলাইয়ের অবদানকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। অথচ উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করতে হয়, গত বুধবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেই হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। সেই অনুষ্ঠানে স্বয়ং ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম উপস্থিত ছিলেন। অনভিপ্রেত ওই পরিস্থিতিতে বিদেশি অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন, যা সার্বিক বিচারে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে। এদিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের এই সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জুলাইতে যারা আত্মাহুতি দিয়েছে, সেসব পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। এটাই সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব।’ দেখা যাচ্ছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ মর্যাদা দিতে বর্তমান সরকার বেশ আন্তরিক। প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৫০ জন জুলাই যোদ্ধা বিদেশে চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাকে তাঁদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক সম্মানি ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের নামে প্রত্যেকের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সড়কের নামকরণ হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। আমরা মনে করি, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকা-ের বিচার হওয়া একান্ত অপরিহার্য। পরিশেষে এ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী যে আশ্বাস দিয়েছেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হোকÑএটাই চাওয়া।
