ঝুঁকিতে সামুদ্রিক মৎস্য খাত : দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

আমাদের আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস বঙ্গোপসগারের মৎস্যসম্পদ। আর দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে কমছে সেই সম্পদ। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে বঙ্গোপসাগর থেকে সামুদ্রিক মাছ আহরণের পরিমাণ কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মাছ আহরণ, অবৈধ ট্রলিং, বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত ছাড়া নৌযানের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণেই আজ মাছের এই আকাল। এই পরিস্থিতিতে হাজারো মৎস্যজীবী ও সামুদ্রিক মৎস্য খাতের ব্যবসায়ী সীমাহীন বিপাকে পড়েছেন। মৎস্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে মোট সামুদ্রিক মাছ আহরণের পরিমাণ ছিল সাত লাখ ছয় হাজার টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মাছ আহরণের পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ছয় লাখ ৭৯ হাজার টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭ হাজার টন কম। ধারাবাহিক এই পতনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সামুদ্রিক মাছ আহরণ আরো কমে নেমে আসে ছয় লাখ ২৮ হাজার টনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আহরণ কমে দাঁড়ায় ৫০ হাজার টনে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট সামুদ্রিক মাছ আহরিত হয়েছে মাত্র পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার টন। শতকরা হিসাবে চার বছরের ব্যবধানে সামুদ্রিক মাছের আহরণ কমেছে ১৯.৫৪ ভাগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাগরে মাত্র ১৪ হাজার ৬০০ বর্গকিলোমিটারের উৎপাদনশীল এলাকায় প্রতিদিন একযোগে মাছ ধরছে প্রায় ৩০ হাজার আর্টিসানাল ও যান্ত্রিক মৎস্য নৌযান। পাশাপাশি সমুদ্রে কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ শিকারে নিয়োজিত রয়েছে আরো ২৩৪টি আধুনিক মৎস্য ট্রলার। একটি নির্দিষ্ট একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নৌযান পরিচালিত হওয়ায় সাগরের মৎস্য মজুদের ওপর অস্বাভাবিক ও অপরিমিত চাপ তৈরি হচ্ছে। অথচ বিজ্ঞান বলছে, সাগরে বায়োমাস বা মাছের তাৎক্ষণিক ঘনত্ব বিবেচনা করে বার্ষিক সর্বোচ্চ ‘সহনশীল আহরণ সীমা’ নির্ধারণ করা হয়। সারা বিশ্বে এটিই প্রচলিত নিয়ম। কিন্তু হতাশার কথা হলো, বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরে প্রকৃতপক্ষে কী পরিমাণ মাছের মজুদ রয়েছে, সেই অনুযায়ী কত পরিমাণ মাছ আহরণ করা নিরাপদÑএসব অপরিহার্য প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। এ ছাড়া খবরে বলা হয়েছে, সাগরের তলদেশে অবৈধ ট্রলিং কার্যক্রম সামুদ্রিক পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূরভবিষ্যতে আমাদের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের পুরোটাই বিলীন হবে। কাজেই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কিভাবে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং সংরক্ষণ করা যায়, সেই কৌশল প্রয়োগ করতে হবে।
