সম্পাদকীয়

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে জটিলতা দূর করতে হবে

প্রতিবছর লাখো শিক্ষার্থী স্কুলজীবন শেষ করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। শিক্ষাজীবনে এ এক নতুন পর্ব। কিন্তু কলেজজীবনের শুরুতেই ভর্তিপ্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। কয়েক ধাপে ভর্তি আবেদন, মাইগ্রেশনের সুযোগ থাকায় ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ করতে অনেক সময় চলে যায়। ফলে ক্লাস শুরু হয় বিলম্বেÑপরবর্তীতে এই সময় পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এসব দিক বিবেচনায় এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বছর এসএসসি ও সমমানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা একাদশে ভর্তির জন্য তিন ধাপে নয়, একবারই সুযোগ পাবে। এ ছাড়া থাকছে না মাইগ্রেশনের সুযোগও। তবে পুনর্নিরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হবে তাদের আরেকবার সুযোগ দেওয়া হবে। একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ১ জুলাই থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছর নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। গত বছর এসএসসির ফলাফল প্রকাশিত হয় ওই বছরের ১০ জুলাই। ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। এদিকে এ বছর এসএসসির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আরো পরে, ১০ আগস্ট। এর পরও যে করেই হোক গত বছরের কাছাকাছি সময়ে ক্লাস শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়। খবরে বলা হয়, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনলাইন আবেদন শুরু হবে। আর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হতে পারে আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। জানা গেছে, গত রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে গঠিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা কমিটির বৈঠক হয়। এই কমিটি প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আন্ত শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আমরা একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ করছি। এরপর তা নীতিমালা আকারে জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।’ লক্ষণীয় বিষয় হলো, এ বছর প্রায় চার লাখ শিক্ষার্থীর ১২ লাখ ৮৭ হাজার খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। বলা চলে, আরেকটি ছোটখাটো পাবলিক পরীক্ষার মতোই। আগে পুনর্নিরীক্ষার ফল দিতে এক মাস সময় লাগলেও এবার দু-তিন গুণ শিক্ষক খাতা দেখলেও অন্তত ৪০ দিন সময় লাগবে। তবে এই সময় যত কমিয়ে আনা যায় ততই শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো। পর্যবেক্ষকমহল বলছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পর দেশের শিক্ষা খাতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। বিশেষ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নাগরিকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন নীতিমালা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে আসনসংকট নেই। বরং কয়েক লাখ আসন ফাঁকা থাকবে। তবে একই সঙ্গে মনে রাখা জরুরি, মানসম্মত কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের ঠিকই লড়াই করতে হবে। অর্থাৎ আমাদের দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও মানসম্মত প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থই বড় করে দেখা প্রয়োজন। জটিলতা এড়াতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন বিড়ম্বনায় না পড়েÑতা নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button