সম্পাদকীয়

স্বাস্থ্যসেবার ভগ্নদশা দূর করতে চাই জবাবদিহিতা

দেশের স্বাস্থ্যসেবার বেহালের অভিযোগ নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে প্রায় একই অবস্থা চলে আসছে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক। শহর থেকে গ্রাম একই চিত্র। হাসপাতাল থাকলে চিকিৎসক নেই, আবার চিকিৎসক থাকলে নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। আর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় না বললেই চলে। বেশির ভাগ সময় রোগীদের পাঠানো হয় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। দেশের সরকারি হাসপাতালে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা থাকলেও যথাযথ সেবা মিলছে না। কোথাও যন্ত্র নষ্ট, কোথাও প্রয়োজনীয় রি-এজেন্ট নেই, আবার কোথাও প্রশিক্ষিত টেকনোলজিস্টের অভাব। জানা গেছে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ঘণ্টা রোগ নির্ণয় সেবা চালু থাকে। বাকি ১৯ ঘণ্টাই বন্ধ। এতে প্রায় ৭৫ ভাগ রোগীকে যেতে হয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে থাকা রোগ নির্ণয় যন্ত্রের ৫২ শতাংশ গত এক বছরেও ব্যবহৃত হয়নি। ৬৫ শতাংশ রোগীর এই সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও পেয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। খবরে বলা হয়েছে, জেলা হাসপাতালের চিত্র আরো উদ্বেগজনক। সেখানে কাগজে-কলমে রোগ নির্ণয় সেবার প্রাপ্যতা ৮৫ শতাংশ। কিন্তু গত এক বছরে নিয়মিত সেবা পেয়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাপ্যতা ৪৬ শতাংশ হলেও নিয়মিত সেবা পাওয়া গেছে মাত্র ১৭ শতাংশ ক্ষেত্রে। মনে রাখা দরকার, আমাদের জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য অংশই দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত। এদের সীমিত আয়ের বড় অংশই চলে যায় চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তথ্য বলছে, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর ৬১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়। দেশের প্রায় ৫৮ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে ধারদেনা করে। প্রায় তিন কোটি মানুষ চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে চিকিৎসাই নেয় না। এদিকে সরকার বলছে, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের সব ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। আধুনিক প্যাথলজি ব্যবস্থায় রোগীরা সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবে। জনবলসংকট কাটাতে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের অনুমোদনও হয়েছে। আমরা মনে করি, সরকারি হাসপাতালে যে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা-উদাসীনতা রয়েছে তা দূর করতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা একান্ত অপরিহার্য। বর্তমান সরকার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এটাই কাম্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন
Close
Back to top button