সম্পাদকীয়

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাড়ছে : ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান

জলবায়ু পরিবর্তনের সর্বনাশা প্রভাব বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ঘন ঘন জলোচ্ছ্বাসের কারণে কোটি মানুষের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের প্রায় ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মতো ভয়াবহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বাস করছে। এমন প্রেক্ষাপটে আজ ৯ নভেম্বর থেকে তুরস্কের আনাতোলিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১ শুরু হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের যে মারাত্মক প্রভাব, সেটি চলমান প্রক্রিয়া এবং দিন দিন তা আরো বিধ্বংসী হয়ে উঠছে। কিন্তু হতাশার কথা হলো, সেই তুলনায় আমাদের প্রস্তুতি একেবারেই তলানিতে। প্রতিবছর নানা প্রত্যাশা সামনে নিয়ে জলবায়ু সম্মেলন শুরু হয়। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো মনে করে, এবার তারা সন্তোষজনক ফল নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবে, কিন্তু তা অপূর্ণই থেকে যায়। গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলন কপ৩০-এ আমরা দেখেছি, প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ফারাক ছিল আকাশ-পাতাল। একদিকে ধনী দেশগুলো বছরের পর বছর ধরে সময়ক্ষেপণ করছে; অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো আরো খাদের কিনারে চলে যাচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের নিজ দেশে ফিরে স্থায়ীভাবে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এমন দেশে ফিরেছে, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউএনএইচসিআরের সহকারী হাইকমিশনার (কার্যক্রম) আন্তন লেইস গার্সিয়া যথার্থই বলেছেন, সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার এলাকাগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যেসব জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে জলবায়ু তহবিল পৌঁছানো জরুরি। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, জলবায়ু পরিবর্তনে যে তহবিল বরাদ্দ থাকে, সেখানেও রয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ। অনেক সময় এই তহবিলের অর্থ কোথায় যায়, শেষ পর্যন্ত তার হদিস মেলে না। ২০২৪ সালে অক্সফামের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু অর্থায়নের ২৪ থেকে ৪১ বিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয়ের যাচাইযোগ্য হিসাব পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া টিআইবির একটি প্রতিবেদনেও জলবায়ু তহবিল নিয়ে অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। সাম্প্রতিক বছরে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে, এই সুজলা-সুফলা ধরিত্রীকে রক্ষা করতে হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে বিশ্বকে দাঁড়াতে হবে এবং জলবায়ু তহবিলের আদ্যোপান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button