মণিরামপুরে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়ষ্করা

মোঃ আব্বাস উদ্দীন, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ঃ প্রচন্ড শীতে মণিরামপুরে ঠান্ডাজ¦র, শ^াসকষ্ট, নিউমোনিয়া ডেঙ্গুজ¦র ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। গত সপ্তাহকালব্যাপি এ সব রোগে আক্রান্ত রুগীরা মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে এসে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের অনেকে হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছে। আবার বহু রুগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। সরেজমিন মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেয়ে দেখা যায়, এদিন আবাসিকভাবে ভর্তি হয়ে ২৬ জন রুগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এ সব রুগীর মধ্যে ১১ জন শিশু। যাদের অধিকাংশই ডায়রিয়া, ঠান্ডা কাশি, জ¦র ও নিউমোনিয়ায় ভুগছে। আর বয়স্ক নারী-পুরুষ রুগীরা শ^াস কষ্ট জনিত নানা সমস্যায় ভুগছে। এদের মধ্যে দুইজন ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায় উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের মিন্টুর শিশু পুত্র হুসাইন (৩), বাকোশপোল গ্রামের জাহাঙ্গীরের ৫ মাসের শিশু পুত্র রাহাত রাব্বি, দুর্গাপুর গ্রামের রাশেদুলের ১ বছর বয়সী কন্যা শিশু আফনান, দূর্গাপুর গ্রামের শরিফুলের শিশু সন্তান ফারিয়া (২বছর ৬ মাস), মহাদেবপুর গ্রামের পুজা মন্ডল (৩৪), বেগারীতলা গ্রামের তানজুমা (৩২), বৃদ্ধা উমা রানী(৭০), শ্যামলী (৩৩), রেক্সোনা (৪২), শিশু ইলা, ফাতেমা, তানিয়া, মিম, খাদিজা, গীতাসহ ২৬ জন রুগী আবাসিকভাবে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের অধিকাংশই ঠান্ডা জনিত কাশি, সর্দি জ¦র, শ^াসকষ্ট, হাপানি, রিকেটশিয়া, নিউমোনিয়া, ডেঙ্গুজ¦র ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া গত সপ্তাহকাল ব্যাপি হাসপাতালে আবাসিকভাবে যে সব নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিয়েছে তাদের বেশিরভাগ শ^াস-কষ্ট, পেটের পীড়া, বুকে ব্যাথা ও জ¦রে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে পূজা মন্ডল ও তানজুমা ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্থি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। তিন বছরের শিশু হুসাইন রিকেটশিয়ায় ও ১ বছরের শিশু আফনান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। সম্প্রতি শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শীতকালিন ঠান্ডা জনিত সর্দি-কাশি ও জ¦র ও শ^াস কষ্টের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা নানা উপসর্গে ভুগছে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকে এ ধরনের রুগীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যথাযথ চিকিৎসা সেবা নিয়ে এ সব রুগীরা সুস্থ্য হয়ে বাড়ী ফিরছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তন্ময় কুমার বিশ^াস বলেন, প্রচন্ড শীতে শিশু ও বয়স্কদের শীত কালিন ঠান্ডা জ¦র,কাশি, ডায়রিয়া ও শ^াস কষ্ট জনিত নানা উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বর্তমানে শিশু ও বয়স্করা নানা সমস্যায় ভুগছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রুগীদের আউটডোর ও আবাসিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু শনাক্তের কীটস সরবরাহ যথেষ্ট রয়েছে।



