বর্জ্য অপসারণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এখনও মাঠে খুলনার শিক্ষার্থী ও বিএনসিসি ক্যাডেট

স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনার সড়কে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন শিক্ষার্থী ও বিএনসিসি ক্যাডেটরা। সড়কে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা গেছে ইসলামী আন্দোলন ও নিচসার সদস্যদের। খুলনায় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা না থাকায় তারা যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সড়কে যানজট কমাতে অ্যাম্বুলেন্স, রিকশা, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চলাচলের জন্য কয়েকটি লেনে ভাগ করে দিয়েছেন তারা। মোটরসাইকেল চালাতে হেলমেট পরতেও বাধ্য করা হচ্ছে। এছাড়াও খুলনা প্রেসক্লাব, ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় জঞ্জাল পরিষ্কার রাখতে দলবেঁধে কাজ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া বিভিন্ন স্থাপনার দেওয়াল লিখনও মুছে দেন। তবে কেসিসির কনজারভেন্সী বিভাগের লোকদের দেখা যায়নি। ২/১ জনকে দেখা গেলেও তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বৃহস্পতিবার খুলনা নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক ঘুরে শিক্ষার্থীদের এমন তৎপরতা দেখা গেছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ট্রাফিক পুলিশসহ তারা আর কাজে ফেরেনি। এতে খুলনার গুরুত্বপূণ মোড়ে যানজট দেখা দেয়। সড়কগুলো অনিরাপদ হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীরা শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজে নেমে পড়েন। বৃহস্পতিবার বিকেলে শিববাড়িমোড়ে শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট, বিএনসিসি ক্যাডেটদের সাথে এক্স ক্যাডেটদের দেখা যায়। তারা সড়কে শৃংখলা ফেরাতে কাজ করতে দেখা যায়। দুপুরে ময়লাপোতো মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, যান চলাচল বেড়েছে। রূপসামুখী যানগুলোকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে যেতে সাহায্য করছেন শিক্ষার্থীদের একটি দল। তারা ইজিবাইকগুলোকে যথাস্থানে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করতে অনুরোধ করছেন। সড়কের অপর পাশে নিরালা ও শিববাড়িমুখী পরিবহণগুলোকে যেতে একইভাবে কাজ করছেন শিক্ষার্থীদের আরেকটি দল। নগরীর আযমখান কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী আরিফ, নুসরাত ও ইমন বলেন, সড়কে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় আমরা দায়িত্ব নিয়ে সকাল থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি। অনেকে ইচ্ছা করে রং সাইডে গাড়ি চালাচ্ছে। তাদের বুঝিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছি। সকালে দৌলতপুর মুহসিন মোড়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় বিএনসিসি ক্যাডেটদের। সরকারি দৌলতপুর মুহসিন স্কুলের শিক্ষার্থী বিএনসিসি ক্যাডেট আশিক বলেন, সংকটকালিন সময় থেকে তারা সড়কের শৃংখলা ফেরাতে ট্রাফিকের কাজ করছে। সাথে পরিচ্ছন্ন অভিযান করছে। অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জোয়াদ্দার বলেন, দেশের সংকটকালিন সময় বিএনসিসি ঘরে বসে থাকতে পারে না। তারা মাঠে নেমেছে। তারা ট্রাফিকের কাজ, পরিচ্ছন্ন কাজ করছে। দেশ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে তিনি জানান। এর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা রাস্তা ঝাড়ু দিচ্ছেন, সড়কের আবর্জনা সরিয়ে ফেলছেন। গতকালও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হেলাল আহমেদ বলেন, আমরা একটি সুশৃঙ্খল দেশের জন্য জীবন দিয়েছিলাম। আমরা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে দেশ গড়ে তুলব। কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, বুধবার থেকে তাদের তেল সংকটের সমস্যা দুর হয়েছে। ওই দিন থেকে তারা এসটিএস’র ময়লা অপসারণ শুরু করেছেন। রাতে ঝাড়–দাররা কাজ করছে নিয়মিত। তবে শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য তাদের আহবান জানানো হলেও তারা আহবানে সাড়া দেয়নি।



