স্থানীয় সংবাদ

ডুমুরিয়ার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ

# হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খাজনার দাখিলা প্রদান
# নায়েব ৩ জন বহিরাগত নিয়ে গড়ে তুলেছেন চক্র #

এম রুহুল আমিন : ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি কর্মকর্তা (নায়েব) জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খাজনার দাখিলা কর্তনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে খাজনার দাখিল দিয়েছেন বর্তমান থুকড়ো ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জালাল । ইতিপূর্বেও অনেক চেষ্টা করেছে এই চক্রটি ভূমি উন্নয়ন কর খাজনা রশিদ (দাখিলা) কাটার । কিন্তু কোন নায়েব সাহস করে এটি দেননি। বিভিন্ন মৌজার একাধিক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত ১ জানুয়ারি ২৫ ডুমুরিয়া উপজেলার চকআসানখালি ৫১৫ /৫১৬ নং খতিয়ানের খাজনা রশিদ কেটে দিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন অনেক টাকার বিনিময়ে থুকড়া ইউনিয়ন ভুমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন এই কাজটি করেছেন। গত ৫ জানুয়ারি এই জমির ৫৭ শতকের দলিল হয়ে গিয়েছে। বিজ্ঞ হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী অত্র ৫১৫ /৫১৬ নং খতিয়ানে কোন খাজনা ও নামপত্তনসহ অন্যান্য কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তা তলব বাকি বইতে ৫১৫/৫১৬ নং খতিয়ানে নোটভুক্ত ছিল। উক্ত নোট বিনষ্ট করে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে মোটা অংকের টাকা উৎকোচ (ঘুষ) নিয়ে ১জানুয়ারি -২০২৫ তারিখে ক্রমিক নং -৪৭৩০২৫০৮৮৩১৪ নং-দাখিলার ৫১৫ নং খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত চক আসানখালি মৌজার ১ একর ৩২ শতক জমি বিলান(কৃষি -২) হারে ৩হাজার ৪শত ৪১ টাকা খাজনা আদায় করেন। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উক্ত খতিয়ানের জমি আবাসিক প্লট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তৎপর উল্লেখিত কারণ উপেক্ষা করে চক আসানখালি মৌজার ৫১৬ নং খতিয়ানে ৪৫ শতক জমি বিলান (কৃষি-২) হারে ৪৭৩০২৫০৮৮৩১৫ নং দাখিলার ১১৭৫ কাজ না আদায় করে। ভূমি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিনের যোগসাজোসে হয়েছে। যা আইনের পরিপন্থী। আশরাফননেছার নামে সি এস ও এসএ খতিয়ানে কোন নাম নেই। ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জালাল উদ্দিনের যোগ-সাজসে আইন অমান্য করে দাখিলা প্রদান। ভূমি সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, খুলনা জেলায় এত বড় ধরনের জালিয়াতি করার পরেও কিভাবে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বহাল তবিয়তে চাকরি করছে আমাদের জানা নেই। এতদিনে সে সাসপেন্ড হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কোন অদৃশ্য কারনে তহসিলদার অফিসে বসে ভুক্তভোগীদের নানা ভাবে হয়রানি করছে। ভূক্তভোগীরা জানান ইতিমধ্যে উক্ত দাখিলা কর্তনকৃত জমির ৫৭ শতক কবলা দলিল করে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তাহলে এর দায় কে নিবে। থুকড়া ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন ৩জন বহিরাগত লোক নিয়ে একটি চক্র গড়ে তুলেছেন। এ চক্রের সদস্য হলেন মানিক, রুমি ও বিকাশ। এরা কেউ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সদস্য নয়্। নায়েব (তহসিলদার ) নিজ খরচে বেতন দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে থেকে মানিক তার পাশে বসে কম্পিউটারে কাজ করেন, রুমি নামে ব্যক্তি ভূমি সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে যে সকল সেবা প্রত্যাশীরা আসেন তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন কাজ করে থাকেন। অপর জন বিকাশ তার বাড়ি রংপুর ইউনিয়নে। তাকে দিয়ে রংপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্যক্তিদের মক্কেল হিসেবে সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। রংপুর মৌজায় এখনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। উক্ত মানিক ও রুমি খুলনার খালিশপুর ও টুটপাড়া থেকে দুটি বাইক চালিয়ে নায়েবকে সঙ্গে নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। এলাকার ভূমি সেবা প্রত্যাশীগন বলেন, ভূমি অফিসের নায়েব জালাল উদ্দিনের নিজস্ব দালাল চক্রের সিন্ডিকেটের কারণে ভূমি সেবা প্রত্যাশীরা অতিষ্ঠ। টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না। এ বিষয়ে থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা ওই ৩ ব্যক্তির কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন আমার ব্যক্তিগত টাকা থেকে বেতন দেই তাদের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, অল্প দিনের মধ্যে এসে জালাল উদ্দিনের মুখোসউম্মোচিত হয়ে গিয়েছে। ইতিপূর্বে যে সকল নায়েব ছিলেন তারা আমাদের সাথে এরকম আচরণ করেননি। যেকোনো কাজেই তাকে টাকা দিতে হয়। আমরা শুনেছি দৌলতপুরেও জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে ও খাজনার দাখিলা কেটে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তারা বহিরাগত লোক হলেও ভূমির কাজের পাশাপাশি দোতালায় রুমি রান্না করেও নায়েব মোঃ জালাল উদ্দিন কে খাবার দিয়ে থাকেন। এলাকাবাসী জানান নায়েব সাহেব প্রতিনিয়ত সকালে অফিস টাইমে অফিসে আসেন না।সেবা প্রত্যাশীদের সাথে খারাপ আচরণ করে। ভূমি সংক্রান্ত ছোট কোন বিষয়ে হলে সেটা গ্রাহকের সামনে বড় করে উপস্থাপন করেন। এ থেকেই তার দালাল চক্র চুক্তিবদ্ধ করে অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে সেই কাজটি সম্পাদন করেন। ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আসাদুর রহমান বলেন,আমি একাধিক অভিযোগ পেয়েছি। খাজনা দাখিলা বাতিলের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে আমাকে। লেনদেনের বিষয়ে আমি শুনেছি। আমি বিষয়টি লিখিতভাবে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর পাঠিয়েছি। খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা জালাল উদ্দিনের বিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এটির তদন্ত চলমান রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। উক্ত দাখিলা কর্তনের বিষয়ে থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা জালাল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি আংশিক করেছেন বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন আমার পূর্ববর্তী নায়েব দিয়েছেন বলে আমিও দিয়েছি। এলাকার ২৬ টি মৌজার ভুক্তভোগীরা এই নায়েবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button