স্থানীয় সংবাদ

পর্যাপ্ত সরবরাহ তবুও উত্তপ্ত ফুলের বাজার!

# বসন্তবরণ ও ভ্যালেন্টাইন ডে ঘিরে বাড়তি চাহিদা : দাম আকাশ ছোঁয়া #
# বাড়তি দামে কেনাবেচায় বিক্রেতার মুখে হাঁসি ফুটলেও নারাজ ক্রেতারা।

মো. আশিকুর রহমান ঃ ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ও ভ্যালেন্টাইন ডে ঘিরে খুলনা নগরীর ফুল বাজারে উৎসবের রঙ ধরেছে ব্যবসায়ীদের মনে। বসন্তবরণ আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের উৎসবে নগরীর ফুলের বাজার এখন চাঙ্গা। তবে পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও ফুল গায়ে যেন আগুন লেগেছে, দাম বাড়তির অভিযোগ করেছেন ফুল কিনতে আসা ক্রেতারা, বিপরীতে ফুল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরের বিশেষ দিনগুলোতে বিশেষ করে পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারী, স্বাধীনতা দিবস, মহান বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নানা দিবস পালনে ফুলের চাহিদা বেশি থাকার কারণে নৈমিত্তিক সময়ের চেয়ে ফুল কিনতে বাড়তি দাম গুনতে হয়। তবে পহেলা বসন্ত ও ভালবাসা দিবসকে ঘিরে সারা দেশ ব্যাপী ফুলের ব্যাপক চাহিদার থাকার কারণে যশোরের গদখালী পাইকারী ফুলের বাজারেই বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে ফুলের। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে এখন গদখালীতে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিয়াস, জারব্রেরাসহ প্রতিটি ফুলের দাম প্রায় দ্বিগুন।

ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারী)) নগরীর বেনিবাবু রোডের ফুলের বিপনী বিতান সমূহ, বয়রা মোড়ের মাধবী পুষ্প কুঞ্জ, দৌলতপুরের মীম গার্ডেন, পলক পুষ্পমালয়, মাধুরী পুষ্প, জুঁই গার্ডেনসহ স্থানীয় এলাকার ফুলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পহেলা বসন্ত ও ভ্যালেন্টাইন দিবস উপলক্ষে সাজ-সজ্জা ও ফুল কেনাবেচা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা, দোকানগুলো সেজেছে বর্নীল সাজে। প্রতিটি ফুল দোকানের সামনেই আনাগোনা বেশি স‹ুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। বাসন্তী উৎসব আর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে দোকানে ফুলের শোভায় মুখরিত। এর মধ্যে লাল গোলাপ, চায়না গোলাপ, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, গাøাডিয়াস, রজনীগন্ধা, গাঁদাসহ নানা রঙ ও বর্ণের ফুল রয়েছে। বেশির ভাগ ফুলই আমদানি করা হয়েছে যশোরের ঝিকড়গাছা গদখালী হতে। থরে বিথরে সাজানো রজনীগন্ধা, গোলাপ, গ্লাডিয়াস, রজনীগন্ধা, চন্দ্র মল্লিকা, জারবেরা, গাঁদাসহ নানা রঙ ও বর্ণের ফুল ও নানা কাজ নিয়ে চরম ব্যস্ত এখন ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমানে বেচাকেনা চাপ কিছুটা কম থাকলেও ২দিন পর চাপ বাড়বে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

ফুল বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বসন্তবরণ ও বিশ^ ভালবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে গদখালিতে ফুলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও চাহিদা কারণে প্রতিটি ফুলের দাম বাড়তি। রাজধানীসহ সারাদেশে ফুল সরবরাহ হওয়ার কারণে ফুলের এতো কদর প্রতি বছরের এই দিনটিতে বাড়ে। বর্তমানে গোলাপ মানভেদে প্রতি পিস ৩০-৭০ টাকা, চায়না গোলাপ মানভেদে ৯০-১০০ টাকা, রজনীগন্ধা মানভেদে প্রতি স্টিক ২০-৩০ টাকা, গ্লাডিয়াস মানভেদে প্রতিপিস ৩০-৫০ টাকা, জারব্রেরা মানভেদে ৪০-৫০টাকা, চন্দ্রমল্লিকা মানভেদে প্রতি পিস ২০-৩০টাকা, গাধা ফুল প্রতি পিস ২ টাকা দরে বিক্রয় করছেন। বাড়তি দামে কেনাবেচায় ব্যবসায়ীদের মুখে হাঁসি ফুটলেও নারাজ হচ্ছেন ক্রেতারা।
পলক পুষ্পালয়ের ফুল বিক্রেতা সুমন জানান, গদখালিতে ফুলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও চাহিদা কারণে প্রতিটি ফুলের দাম বহুগুণে বেড়েছে। তাছাড়া ১০০ পিসের আটি বলে পাঠিয়ে দিলে, আটিতে ফুল কম পাওয়া দূর থেকে অনেক লাভ মনে হয়, আসলে পুজি খাটিয়ে আহামরি লাভ পাওয়া যায় না। বাড়তি দামে ফুল কেনা লাগলে তো বাড়তি দামে বিক্রি করতে হবে।

ফুল ব্যবসায়ী সজল জানান, প্রতি বছরেই বিশেষ দিনগুলোতে ফুলের দাম অন্য সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন হয়ে যায়। বাড়তি দামে ফুল কিনে আনতে হয় গদখালী হতে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ফুল বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। ফুলের চাহিদা এতো বেশি। তাই ক্রেতা সামলাতে বাড়েিত দামেই পাইকারী বাজার হতে ফুল কিনতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী জাফর জানান, পয়লা বসন্ত, ভালোবাসা দিবস, পয়লা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারী, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরে বেশ কেনাকাটার চাপ থাকে। তাছাড়া সারা বছরই চলে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ব্যবসা। বিশেষ দিনগুলোতে ফুলের দাম বেশ চড়াও হয় যায়। কয়েকদিন আগের গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিয়াস, জারব্রেরা ফুলের দাম যা ছিল বর্তমানে তার ডবল। চাহিদা অনুসারে ফুলের সরবরাহ কম। তাছাড়া ফুল রাজধানী মুখি হওয়ার কারণে গদখালী বাজারে দাম বেশি।
ফুল কিনতে ক্রেতা সাবু জানান, মেয়ের বিয়ে, ১৪ ফেব্রুয়ারী। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ফুল লাগবে। ফুল কিনতে এলাম বাজারে, একি! ফুলের গায়ে যেন আগুন। মাথা নষ্ট গোলাপ ২০ টাকা পিস। মহা বিপদে পড়েছি। তারপরও বিয়ের অনুষ্ঠান হাত-পা বাধা। করার কিছু নাই। অবশেষে বাড়তি দামে ফুল কিনতে হলো। ক্রেতা আশিক জানান, আজ আমার বন্ধুর জন্মদিন। তার জন্য দুটি গোলাপ কিনতে এলাম। ওরে মা, মাথায়ই নষ্ট। দুটি গোলাপ ১’শ টাকা। এতো রীতিমতো ডাকাতি। বসন্ত বরণ ও বিশ^ ভালাবাসা দিবসকে ঘিরে নগরীর ফুলের বাজারে যেন আগুন লেগেছে এমনই মন্তব্য ফুল কিনতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের।

 

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button