পাটকল চালু না করা উপদেষ্টার মন্তব্যে নাগরিক কমিটির বিস্ময় প্রকাশ

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চল সফরে এসে অন্তর্বতীকালীন সরকারের মাননীয় বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন বিগত ২০২০ সালের জুলাই মাসে বন্ধকৃত রাষ্ট্রীয় পাটকল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চালু না করা, লিজ প্রক্রিয়া বহাল রেখে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও খালিশপুর-দৌলতপর জুটমিলসহ ৫টি পাটকলের সকল শ্রমিক বকেয়া কোনো পাওনা পাবে না এ ধরণের মন্তব্য করায় বিস্ময় প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন কৃষি- শিল্প- পাট ও পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে পাটশিল্প বিপুল অর্থনৈতিক লাভবান একটি খাত। বর্তমানে দেশে বিদেশে পাটের চাহিদা বিপুল। এবিষয়ে আমরা বিগত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব) সাখাওয়াত হোসেনের সাথে সাক্ষাত করি। সাক্ষাতকালে পাট উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, ৫টি পাটকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ করা হবে। কারণ এই বকেয়া তাদের হক। তিনি আরো আশ্বস্ত করেছিলেন, খুলনার শিল্পাঞ্চল তিনি পরিদর্শনে আসবেন এবং পাইলট প্রকল্প হিসেবে একটি পাটকল চালু করবেন। আপনার প্রতিক্রিয়া তৎকালীন পাট উপদেষ্টার উদ্যোগ ও মন্তব্যের সম্পর্ণ বিপরীত। আমরা এবিষয়ে স্পষ্টত বলতে চাই, দেশের অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ, নাগরিক, শ্রমিকনেতাদের অংশ গ্রহণে জাতীয় নাগরিক সংলাপ আহবান করা উচিত। প্রদত্ত বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিগত সরকারের শাসনামলে পাটশিল্পে লাগামহীন অনিয়ম, আমলাতান্ত্রিকতা, অদক্ষতা, দুর্নীতি ও লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়। সরকারের মাথাভারি প্রশাসন ও দুর্নীতিযুক্ত বিজেএমসির সংস্কার করাসহ তৎকালীন মন্ত্রী, সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তদন্ত ও বিচার না করে লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ২৬টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ সরকার। এ সকল পাটকল বন্ধে দেশি-বিদেশি কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীকে হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুণ্ঠনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। বিগত সরকারের এহেন পদক্ষেপ বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পাট উপদেষ্টা একই সুরে কথা বললেন, যা লুণ্ঠনের পথ আরো পাকাপোক্ত হবে। তার এই ধরণের শিল্প ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বন্ধকৃত ২৬টি পাটকল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চালু, যে সকল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল লিজ দেয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়াধীন আছে সেগুলো বাতিল, খালিশপুর-দৌলতপুর জুট মিলসহ ৫টি জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ, উল্লিখিত পাটকলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা অবিলম্বে পরিশোধ, ২০১০ সালের ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং এক্ট কার্যকর, কাঁচাপাট সরাসরি রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা, আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিল কর্তৃক যে সকল ফৌজদারি মামলা রয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার এবং খুলনায় আন্দোলন চলাকালীন শ্রমিক ও নাগরিক নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নতুবা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। বিবৃতিদাতারা হলেন, সভাপতি এ্যাড. কুদরত-ই-খুদা, সাধারণ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ, সহ সভাপতি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এস এ রশীদ, জনার্দন দত্ত নান্টু, মুনীর চৌধুরী সোহেল, মোঃ মোজাম্মেল হক খান, জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী, মাহফুজুর রহমান মুকুল, যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, কোহিনুর আক্তার কণা, পলাশ দাস, এস এম চন্দন, কোষাধ্যক্ষ এস এম সোহরাব হোসেন, দপ্তর সম্পাদক আফজাল হোসেন রাজু, শ্রমিকনেতা মোঃ মনির হোসেন, মোঃ অলিয়ার রহমান শেখ, মোঃ নূরুল ইসলাম।
