স্থানীয় সংবাদ

মহেশ^রপাশার চা বিক্রেতা থেকে অঢেল সম্পদের মালিক নন্দী

# ভূয়া ওয়ারেশ কায়েম সনদের মাধ্যমে ভূমির নামপত্তন
# গড়ে তুলেছেন অবৈধ ভাবে ভূমি দখল চক্র# কাউন্সিলরদের পূর্বে প্রদানকৃত স্মারকে ওয়ারেশ স্থাগিত#

এম রুহুল আমিন : খুলনার দৌলতপুর থানাধীন মহেশ্বরপাশার চা বিক্রেতা থেকে অর্থবিত্তের মালিক বুনে গেছেন উত্তম কুমার নন্দী।সম্প্রীতি তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে আরো অনেক ভূমি জাল জালিয়াতির প্রমাণ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্র দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন বে-ওয়ারেশকৃত হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি।গড়ে তুলেছেন অবৈধ ভাবে ভূমি দখল চক্র। সরেজমিনে ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ভুয়া ওয়ারেশ কায়েম দিয়ে ২০ শতক জমি উত্তম নন্দী নিজ ও ভাইপোর নামে নামজারি করিয়ে নিয়েছেন।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, লতা খামার মৌজার ৫৬৯ নং বি আর এস খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক শান্তিরাম নন্দী ও ললিনী কান্ত নন্দী,সর্ব পিতা কেদার নাথ নন্দী জমি নামজারী কেস ৪৫৮২/১২-১৩নং নামপত্তনের মাধ্যমে ২০ শতক জমি ভূয়া ওয়ারেশ কায়েম সনদ দ্বারা সঞ্জয় কুমার নন্দী,পিতা-জগন্নাথ নন্দী ও উত্তম কুমার নন্দী পিতা- বিনোদ বিহারী নন্দীর নামে রেকর্ড করাইয়া আত্মসাৎ করিয়াছে। সুত্রে জানা যায়, রামলাল নন্দীর স্ত্রী জ্ঞানদা সুন্দরী নন্দীর ৫ পুত্র সন্তান ও ২ কন্যা সন্তানকে ওয়ারেশ রেখে মৃত্যু বরন করেন। মহেশ্বরপাশা পরিচয় বহির ১৫ই আষাঢ় ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে ডাক্তার খগেন্দ্রনাথ বসু আজ থেকে ৯৫ বছর পূর্বে মহেশ্বরপাশার পরিচয় ও ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেন। তার লেখনীতে ৩৫৫-৩৫৬ নং পৃষ্ঠায় নন্দী বংশ পরিচয় বিন্যাসে দেখা যায়, নন্দী বংশের পূর্ব পুরুষ গৌরহরি নন্দীর থেকেই লেখক বংশ শুরু করেছিলেন। তাতে দেখা যায় গৌরহরি তার সন্তান রামপ্রসাদ নন্দী, রামপ্রসাদের সন্তান গোপাল, গোপালের সন্তান রামচন্দ্র, রামচন্দ্রের দুটি সন্তান রামকানাই নন্দী ও রামকুমার নন্দী । রামকানাই নন্দীর সন্তান কৃষ্ণমোহন নন্দী, কৃষ্ণমোহন নন্দীর পাঁচ পুত্র সন্তান রয়েছে কনক নন্দী, শ্যাম নন্দী, রামলাল নন্দী, লক্ষণ নন্দী ও ভরত নন্দী। মহেশ্বরপাশা পরিচিতি পুস্তক থেকে জানা যায়,রামলালের দুই বিবাহ । তিনি প্রথমে দর্শনা নিবাসী জ্ঞানচন্দ্র বিশ্বাসের একমাত্র কন্যা ঘৃতকুমারীকে বিবাহ করেন। প্রথম স্ত্রী একটা কন্যা সন্তান জন্মবার পরে ঘৃতকুমারী মৃত্যুবরণ করেন। রামলাল তৎপর বারাকপুর নিবাসী খুলনার মোক্তার রামমোহন বিশ্বাসের কন্যা জ্ঞানদা সুন্দরী কে বিবাহ করেন। রামলালের দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভজাত সাতজন সন্তান ছিলেন, পাঁচজন পুত্র ও দুইজন কন্যা সন্তান। অপরদিকে রামকুমারের পুত্র গোবিন্দ্ নন্দী, গোবিন্দ নন্দীর পুত্র কেদার নাথ নন্দী। কেদারনাথ নন্দীর ৩ পুত্র শান্তি নন্দী, বিনোদ নন্দী ও ললিত নন্দী। বিনোদ নন্দী অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরন করায় অন্য দুই ভ্রাতা শান্তি নন্দী ও ললিত নন্দী পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে মহাভারত গমন করেন। উত্তম কুমার নন্দীর পিতার নাম বিনোদ বিহারী নন্দী হওয়ায়, যোগসাজসে ভারতগামী শান্তি নন্দী ও ললিত নন্দীর অবিবাহিত ভ্রাতা বিনোদ নন্দীর ওয়ারেশ কায়েম প্রস্তুত করে, তাদের বাংলাদেশে পতিত বে-ওয়ারেশকৃত জমি-জমা নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিচ্ছেন। মহেশ্বরপাশার পরিচয় বর্হি ও প্রবীন ব্যক্তি সুত্রে জানা যায়, উত্তম কুমার নন্দীর পিতা-বিনোদ বিহারী নন্দী আসলে সম্মানিত রামলাল নন্দীর ক্রমিক বংশধর ওয়ারেশ নয় মর্মে জানা যায়, তাহাদের বংশের পদবী একই হলেও তাহারা রক্তের কেউ নয়। তৎপর পতিত বে-ওয়ারেশকৃত জমি জাল-জালিয়াতী করনের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কলা-কৌশলে দাদুর নাম, পিতার নাম ওমক ওরফে তোমক লিখিয়া খুলনা সিটির ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক বিভিন্ন স্মারকে ওয়ারেশ সনদ নিচ্ছেন। কিন্তু কাউন্সিলরগণ উক্ত জাল ওয়ারেশ সংক্রান্ত বিষয়ে জ্ঞাত হওয়ার পরে পূনরায় আর কোন ওয়ারেশ সনদ প্রদান করেন নাই এবং পূর্বে প্রদানকৃত স্মারকে দেওয়া ওয়ারেশ স্থাগিত রেখেছেন মর্মে জানা যায়। তথ্য সূত্রে আরো জানা যায়, ১নং ওয়ার্ড তৎকালীন কাউন্সিলর শেখ আব্দুর রাজ্জাক ওয়ারেশ কায়েম সনদপত্র ৮৯/২০২০স্মারকে,তারিখ-২৬-১১-২০২০ দেখা যায়, উত্তম কুমার নন্দীর পিতার বাবার নাম ভূদেব চন্দ্র নন্দী ওরফে কেদারনাথ নন্দী।এখানে সম্পূর্ণই কাগজপত্রের জাল-জালিয়াতি করে বিভিন্ন জায়গায় জমি দখল করছেন উত্তম কুমার নন্দী ও তার ভাই জগন্নাথ নন্দীর পুত্র সঞ্জয় নন্দী কে নিয়ে ভূমি দখলে মেতে উঠেছেন। সাথে রয়েছেন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা,কর্মচারী ও মহুরী। আর এ থেকে হয়রানির শিকার হচ্ছেন পূর্ব থেকে জমি ক্রয় করে মালিক হয়েছেন এমন ভুক্তভোগীগন। এই জালিয়াতি চক্র নকল রায় ডিগ্রী ও ওয়ারেস কায়েম সনদ দিয়ে জমির মালিক সেজে বিক্রি করছেন। সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান সমাজের সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। ডুমুরিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বিষয়ে বলেন, জমি দখলকারী একটি চক্র রয়েছে যারা এভাবেই মানুষের জমি বিভিন্ন পন্থায় দখল করে নেন। তাদের শনাক্ত করে আমরা ব্যবস্থা নিব। ওয়ারেশ কায়েম তো আর আমরা দেই না এইটা কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান, মেম্বারা দিয়ে থাকেন । তবে যদি এমন হয়ে থাকে ১৫০ ধারার মাধ্যমে সেটি বাতিল করা হবে। তৎকালীন সময় থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে তহশিলদার (নায়েব)জগন্নাথ ঘোষ বলেন, আমি যদি দিয়ে থাকি হয়তোবা ভুলক্রমে হতে পারে । আমি সব সময় বুঝে শুনে কাজ করার চেষ্টা করি।তবে সেটি বাতিল করা যাবে ১৫০ ধারা আবেদন করলেই বাতিল হয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button