স্থানীয় সংবাদ

বাগেরহাটে ধানের বাম্পার ফলন মূল্য কম থাকায় লোকসান আতংকে কৃষক

আজাদুল হক, বাগেরহাট প্রতিনিধি ঃ বাগেরহাটে এবার বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নাই। সরকার নির্ধারিত মূল্যের আগেই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে ধানের মুল্য উৎপাদন খরচের থেকে কম হওয়ায় চরম লোকসানে পড়তে যাচ্ছে কৃষককুল। ধানের বাম্পার ফলন ও বাজার মূল্য নিয়ে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় সরেজমিনে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে চলতি বোরো মৌসুমে ৬ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ৫ হাজার ২শ হেক্টর এবং উফশী জাতের ১ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এ উপজেলায় শুধু বাধাল ইউনিয়নে চলতি বোরো মৌসুমে ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে ধানের চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ৮৬৫ হেক্টর এবং উফসী জাতের ৩৭০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। গত বছরে তুলনায় এবছর ধান ভাল হলেও একজন দিন মুজুরের দৈনিক বেতন ৮০০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা যা এক মন ধানের মুল্য। এরপরও দিনমজুর মিলছে না বলে জানায় কৃষকরা। ফলে কৃষক পরিবারের ছেলে-মেয়ে-গৃহবধূ সহ সকলে কঠিন পরিশ্রমের পর ধান ঘরে তুলতে পারলেও এখন কম মূল্যে ধান বিক্রয় করে লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকের। বাধাল এলাকার কৃষক সুবোধ দাস ও বর্গা চাষি রঞ্জন দাসসহ স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, জমির মূল্য বাবদ জমির মালিককে টাকা এবং ধান বীজ, চাষাবাদ, সার ওষুধ, ধান কাটা ও মাড়াই সহ ঘরে তুলতে বিঘা প্রতি খরচ ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকা। ফলন হয়েছে বিঘা প্রতি ২০/২৫ মন। আর বাজারে হাইব্রীড ধান প্রতি মন ৮৫০ টাকা থেকে ৯৫০টাকা দরে বিক্রয় করে লোকসান হচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই কৃষকরা আরো বলেন, আমরা অন্যের জমি বর্গা রেখে ধান চাষ করি এবং বিক্রয় করে এনজিও লোনসহ ধার-দেনা পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু আমরা ন্যায্য মূল্য পাই না। সরকারি ভাবে যে সময় ধান ক্রয় করা হয় তখন কৃষকের নিকট ধান থাকে না। বাধাল বাজারের ধান ব্যবসায়ী সোবাহান ও জীবন দাস বলেন, আমরা ধান ক্রয় করে অটোমিলে বিক্রয় করি সেখানে সরকার নির্ধারিত মুল্য পাওয়া যায় না। তবে সরকারী ভাবে ধান ক্রয় শুরু করলে বাজার মূল্য বাড়বে। এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রভাষ দাস বলেন, আমরা কৃষকদের কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছি। এছাড়া তাদেরকে চাষের পদ্ধতি বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। সময়মত সার বীজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা ছাড়াও জমিতে সেচের ব্যবস্থা গ্রহন করায় চলতি বোরো মৌসুমে ফসল ভাল হয়েছে। ন্যায্যমূল্য পেলে কৃষক লাভবান হবেন। এ বছর সরকারি ভাবে প্রতি মন ধান ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি ভাবে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে। এ জন্য সরকারীভাবে মনিটরিং থাকতে হবে। যাতে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালরা সিন্ডিকেট করতে না পারে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button