খুলনায় ভোক্তা অধিকারের কঠোর অভিযান

# অভিযানে ১৩ প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা #
# জনস্বার্থে অভিযান চলমান রাখার আশ^াস সংশ্লিষ্টদের #
মো. আাশিকুর রহমান : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় সমূহ খুলনার নিত্যপণ্যের বাজার ভোক্তাদের নিয়ন্ত্রনে রাখাসহ নিয়মবর্হিভূত কেনাবেচা ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত বাজার তদারকিসহ অভিযান অব্যহত রয়েছে। ওই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৪ এপ্রিল) ভোক্তা অধিকারের ৭ টি টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এসময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসমূহের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়। তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান কালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার মোস্তফা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়াছ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হয়। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামান নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার মোস্তফা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স গাজী এন্টারপ্রাইজকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৫ হাজার এবং মেসার্স শেখ এন্টার প্রাইজকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ আদায় করা হয়। খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর নতুন রাস্তার মোড়, দৌলতপুর ও বাদামতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাফিজ বেকারিকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা ও আদি ইউনানি চিকিৎসা ও বিক্রয়কেন্দ্রকে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জিিরমানা আরোপসহ আদায় করা হয়
ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহেরের নেতৃত্বে সদর উপজেলার বিষয়খালী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জারিয়া বেকারিকে পন্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন করার অপরাধে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হয়। মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে সদর উপজেলার জগদল বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স নুর স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করা ও মূল্য তালিক প্রদর্শন না করার অপরাধে ৩ হাজার টাকা এবং মেসার্স ভাই ভাই হোটেলকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায়সহ আরোপ করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলীর নেতৃত্বে দৌলতপুর উপজেলার সাদিপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স সিরাজুল আইসক্রিম ফ্যাক্টরিকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ও পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ২০ হাজার এবং মেসার্স শোভা ট্রেডার্সকে পরিমাপে কারচুপি করার অপরাধে ২ হাজার টাকা এবং বিদ্যুৎ স্টোরকে ভেজাল পণ্য বিক্রয় করার অপরাধে ১ হাজার টাকা জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হয়। নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসানের নেতৃত্বে কালিয়া উপজেলার চাচুরি বাজারে অভিযান চালিয়ে মেসার্স মায়ের দোয়া বেকারিকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হয়। বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানার নেতৃত্বে রামপাল উপজেলার ফয়লা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে টুস্টার বেকারিকে খাদ্য দ্রব্য নিষিদ্ধ পণ্যের মিশ্রণ করার অপরাধে ৮ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করাসহ আদায় করা হয়। অভিযানে ১৩ টি প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার টাকা টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
এ ব্যাপার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে খুলনার বাজারে আমাদের নিয়মিত তদারকিসহ অভিযান অব্যহত আছে। ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত করলে ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হচ্ছে। খুলনার বাজার সমূহে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান সরকার প্রদত্ত নিয়মনীতির বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। জনস্বার্থে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।


