স্থানীয় সংবাদ

দেশীয় মাছ চাষে আগ্রহ বাড়ছে মৎস চাষিদের

# মাছের স্বাদ ভিন্ন হলেও পুষ্টি গুণ এক

শেখ ফেরদৌস রহমান ঃ মাছে ভাতে বাঙ্গালী। তবে দেশীয় পুকুর, ডোবা, খাল বীলের মাছের চাহিদা থাকলেও দাম থাকেনা সাধরণ ক্রেতাদের নাগালে। যে কারণে চাহিদা মেটাতে দিন দিন দেশীয় মাছ শিং, টেংড়া, মলা, কৈ, পুটি মাগুর মাছ বাণিজ্যিক ভিক্তিতে চাষ করতে আগ্রহ বাড়ছে মৎস চাষিদের। এমনকি এসব দেশীয় মাছের স্বাদ একটু ভিন্ন থাকলেও পুষ্টি গুণ এক্ই বলে জানিয়েছেন মৎস অধিদপ্তর। পাশাপাশি মৎস অধিদপ্তর কতৃক প্রতিটি জেলা, উপজেলা পর্যায়ে এসব দেশীয় মাছ চাষ করার জন্য প্রতি বছর ১ হাজার থেকে ১৫শ মৎস চাষিদের তিন দিন এর প্রশিক্ষন ও সম্মানী দিচ্ছে। এতে করে আরও আগ্রহ বাড়ছে মৎস চাষিদের পাশাপাশি এসব দেশীয় মাছ চাষ করে নিজেদের পরিবারেরা পাশাপাশি বাণিজ্যিক ভাবে লাভবনান হচ্ছে আর্থিক স্বচ্ছলতা মৎস চাষিরা। এ বিষয়ে কথা হয় খুলনা ফুলতলা ডাউখানা গ্রামের বাসিন্দা মৎস চাষি দিবারুল সরদারের সাথে তিনি বলেন, আমার তিনটি মৎস ঘের আছে। আমি সাধারনত কার্প জাতীয় সাদা মাছ ও চিংড়ি মাছ চাষ করতাম। আমার এক বড় ভাই আমাকে বলে কিছু বাড়ীর পাশে একটি ডোবায় কিছু শিং মাছ চাষ করতে। আমি তাৎক্ষনিক ভাবলাম জায়গাটা ফেলে রাখা আছে তাহলে কিছু মাছ চাষ করা যায়। আমি শিং মাছ চাষ করা জন্য প্রস্তুতি নেই। প্রথমে পুকরটি ভালোভাবে শুকিয়ে মৎস কমকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু পুকুরের তলদেশে কিছু সার , গোবর দেয়া হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে ৮শ মত শিং মাছ চাষ করা যায়। সেভাবে পুকুর প্রস্তুতি করা শুরু করি। মুলতঃ এপ্রিল-মে মাসের সময় এসব মাছ ছাড়তে হয় পুকুরে। এছাড়া তাদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি মাসে একবার শিঙাইট ও প্রোবাইটিঙ সমন্বয়ে অ্যাকোয়া ম্যাজিক প্লাস একবার প্রয়োগ করতে হয়। এসব করলে পুকুরের তলদেশ এবং পানির গুণাগুণ রক্ষা হয়। এছাড়া মাছ চাষ করা পর অনেক সময়ে ছত্রাক লাগতে পারে পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ প্রয়োগ করলৈ ঠিক হয়। এছাড়া এসব মাছের খাবার মুলত পুকুরের তলদেশের জলজ কীট খায় পাশাপাশি মান সম্মত ভাসমান যে খাবার ভুষি,কুড়া খাবার দেয়া যায়। সব মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ মাস পর প্রতিটি শিং মাছ ৬০ গ্রাম থেকে ৮০ গ্রাম ওজন হলে বাজার জাত করা যায়। তবে মাছের দাম খুব বেশি পাওয়া না গেলেও খরচ বাদে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হওয়া যায়। তবে গেল বছর অতিবৃষ্টি কারণে আমাদের অঞ্চলে পানি আটকে থাকে এতে করে ব্যপক লোকশান হয়। এ বিষয়ে খুলনা মৎস অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দেশীয় মাছ আর দেশীয় চাষের মাছ খেতে স্বাদ একটু ভিন্ন তবে, এসব মাছের একই পুষ্টি গুণ। এছাড়া একটু শারিরিক রং এর ভিন্নতা আছে পাশাপাশি আমরা প্রতিনিয়ত জেলা, উপজেলা পর্যায়ে আগ্রহী মৎস চাষিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি কিভাবে দেশীয় মাছ চাষ করা যায়। আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা হবে। এমনকি আমরা মাছে ভাতে বাঙ্গালী মাছ বিশেষ করে দেশীয় মাছের চাহিদা থাকবে। তাই অল্প জমিতে দেশীয় মাছ চাষ করলে পারিবারে চাহিদার পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবনা হওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button