স্থানীয় সংবাদ

খুলনার দৌলতপুর পোস্ট অফিসের বেহাল দশা ঝুঁকিপূর্ন ভবণে চলছে অফিস ও সেবা কার্যক্রম

# ২৩ পদের বিপরীতে ৯ জনকে দিয়ে চলছে অফিস, জনবল সংকট
# ভবনের বিভিন্ন স্থানের প্লাস্টার ধ্বসে ধ্বসে পড়ছে, বর্ষায় জলাবদ্ধতায় দূর্ভোগ
# সেবা প্রত্যাশী ও সুধী মহল প্রশ্ন ছুড়েছেন: কোনো দূর্ঘটনা ঘটলে এ দায় কার?

মো. আশিকুর রহমান ঃ বাংলাদেশ ডাক বিভাগ বাংলাদেশের ডাক সেবা প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এটি বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের একটি অধিদপ্তর। ডাক বিভাগের মূল সেবা হলে, সাধারণ চিঠিপত্র, রেজিঃ চিঠিপত্র, জিইপি, ইএমএস, সাধারন মানি অর্ডার, ইলেকট্রিক মানি অর্ডার সার্ভিস, পোস্টাল ক্যাশ কার্ড, পার্সেল সার্ভিস, ভিপিপি ভিপিএস, ডাকটিকিট বিক্রিয়। একটি পোস্ট অফিস হল একটি পাবলিক সুবিধা এবং একটি খুচরা বিক্রেতা যা মেল পরিষেবা প্রদান করে, যেমন চিঠি এবং পার্সেল গ্রহন করা, পোস্ট অফিসের বাক্স সরবরাহ করা এবং ডাকটিকিট, প্যাকেজিং এবং স্টেশনারি বিক্রি করা। এজেন্সি সার্ভিস সমূহ: ডাক জীবন বীমা, সঞ্চায় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র বিক্রয় ও ভাঙানো, প্রাইজ বন্ড বিক্রি ও ভাঙানো, বিড়ি ব্যান্ডারোল মূদ্রন ও বিক্রয় এবং সরকারের সকল প্রকার নন পোস্টাল টিকিট মুদ্রন ও বিতরন করা।
খুলনা মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি উপশহর দৌলতপুর। এই উপশহরের একটি গুরুত্বপূর্ন ও সেবা গ্রহনের একটি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান হলো দৌলতপুর পোস্ট অফিস বা ডাকঘর। যদিও বর্তমান আধুনিক সময়ে তথ্য প্রযুক্তি উৎকর্ষতার কারণে ডাকঘর জনপ্রিয়তা কিছুটা কমেছে। তাছাড়া বর্তমানে বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানের কুরিয়ার সার্ভিস, ইন্টারনেটের ই-মেইলের মাধ্যমে নিমেষেই এক জায়গা হতে অন্য জায়গায় তথ্য আদান-প্রদান করা যাচ্ছে। তারপরও রাষ্ট্রীয়ভাবে ডাকঘর অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। দৌলতপুর পোস্ট অফিসের সংশ্লিস্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি হতে প্রতিদিনই সেবা নিতে আসা সেবা গ্রহীতারা অত্র অফিস হতে সাধারণ চিঠিপত্র ইসুৎ, রেজিঃ চিঠিপত্র ইসুৎ, জিইপি, ইএমএস, সাধারন মানি অর্ডার, ইলেকট্রিক মানি অর্ডার সার্ভিস, পোস্টাল ক্যাশ কার্ড, পার্সেল সার্ভিস, ভিপিপি ভিপিএস, ডাকটিকিট বিক্রিয়সহ বিবিধ সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ডাক বিভাগের নির্দেশনা থাকার কারনে বর্তমানে এজেন্সি সার্ভিস যেমন-ডাক জীবন বীমা, সঞ্চায় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র বিক্রয়সহ অন্যান্য এজেন্সি সার্ভিসের সেবা বন্ধ আছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) সরেজমিনে পোস্ট অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ন জরাজীর্ণ ও বেহাল দশায় ভবনটি পড়ে আছে। ভবনটির ছাদের বিভিন্ন স্থান হতে প্লাস্টার ধ্বসে ধ্বসে পড়ছে, তাকিয়ে রয়েছে লোহার রডগুলো, ভাঙ্গা জানালা-দরজা, অভাব রয়েছে পর্যাপ্ত আলো বাতাসেরও। এটি অনেকটাই অনিরাপদও। সেই সাথে সামান্য বৃষ্টি বা ভারী হলে হাঁটুজলে জলাবন্ধতায় সেবা প্রত্যাশিদের আরো দূর্ভোগ বাড়ছে। এমন জরার্জীণ ও ঝুঁকিপূর্ন ভবনটি আজও নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করেনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসটিতে সেবা নিতে প্রতিদিনই দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকা হতে সেবা প্রত্যাশিরা ছুটে আসেন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৩ জনবল থাকার কথা থাকলেও অফিসটি চলছে মাত্র ৮ জনকে দিয়ে। যেখানে বর্তমানে পোস্টাল অপারেটরের দায়িত্ব পালন করছেন পোস্ট মাস্টারের। সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তিবর্গ ও সুধীমহল বলছেন, দুঃখের বিষয় বিগত সরকারের আমলে নাকি খুলনা শহরের আমুল পরির্তন হয়েছে। খুলনায় এত উন্নয়ন হয়েছে, তবুও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি দৌলতপুর উপশহরের গুরুত্বপূর্ন পোস্ট অফিসটিতে। ঝুঁকিপূর্ন এই ভবনটিতে যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা বোধ করছেন তারা। ওই ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রশ্ন ছুড়েছেন, কোনো বড় দূর্ঘটনা ঘটলে এ দায় কার?
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর পোস্ট অফিসটি এই এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ঝুঁকির মধ্যে চলছে অফিস কার্যক্রম। পোস্ট অফিসটি ১ জন এসপিএম, ১ জন সুপারভাইজার, ৮ জন পোস্টাল অপারেটর, ১ জন স্ট্যাম্প ভেন্ডার, ৭ জন পোস্ট ম্যান, ২ জন এম সি, ১ জন ইডি চৌকিদার, ১ জন ইডি নাইট গার্ড ও ১ জন ইডি ঝাড়–দার থাকার কথা থাকলেও ২৩ টি পদের বিপরীতে দায়িত্বপালন করেছে ৯ জন। যার মধ্যে রয়েছে ১ জন পোস্টাল অপারেটর, ২ জন পোস্ট ম্যান, ১ জন এমসি, ১ জন ইডি চৌকিদার, ১ জন ইডি ঝাড়–দার ও ১ জন ইডি নাইট গার্ড। প্রায় ৫/৭ বছর ধরে নির্ধারিত পদের জন বল নাই। ভবনটি বহুবার সংস্কার বা নতুনভাবে নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করা হলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এখন কি অবস্থায় আছে, এ বিষয়ে দৌলতপুর পোস্ট অফিসের সংশ্লিস্টরা অবগত নন।
চিঠি পোস্ট করতে আসা জাকির হোসেন জানান, দৌলতপুর পোস্ট অফিস এই অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দুঃখ জনক বিষয় হলো দীর্ঘদিন ধরে এই ভবনটি সংস্কার বা নতুনভাবে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ গ্রহন করছে না কর্তৃপক্ষ। ঝুকিপূর্ন ভবনটিতে যে সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া অফিসেও লোকজন কম। বর্ষার সময় পোস্ট অফিসের সামনে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গাজী আছিফুল হক অনি জানান, দৌলতপুরের পোস্ট অফিসটি এই পুরাতন একটি গুরুত্বপূর্ন সরকারি স্থাপনা। ভবনটিতে ঝুকির মধ্যেও দীর্ঘদিন অফিস কার্যক্রম চলছে। বড়সড় কোনো দূর্ঘটনা ঘটলে এই দায় কার? দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভবনটি সংস্কার করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
দৌলতপুর পোস্ট অফিসের এমসি মো. জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, আমাদের এই ভবনটি বহুদিন ধরে বেহাল দশায় পড়ে আছে। বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশ খসে খসে পড়ছে। ঝুকিপূর্ন ভবনটিতে অফিস করতে ভয় লাগে। দৌলতপুর পোস্ট মাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) শেখ. জিয়াউর রহমান জানান, অফিসটিতে জনবল সংকট রয়েছে। ২৩ টি পদের বিপরীতে অফিসে আমরা মাত্র ৯ জন দায়িত্বপালন করছি। এছাড়া ভবনটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ন। বিভিন্ন স্থান হতে ভেঙে ভেঙে পড়ছে। ঝুকির মধ্যে অফিস ও সেবা কার্যক্রমও অব্যহত রেখেছি। সামান্য বর্ষা হলে অফিসের সামনে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ভবনটি সংস্কারের একাধিকবার উদ্যোগ নেলেও আজও বাস্তবায়ন হয়নি। সবমিলিয়ে ঝুকির মধ্যে অফিস করছি।
দৌলতপুর থানা বিএনপি সাঃ সম্পাদক ও ৫নং ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা শেখ ইমাম হোসেন জানান, একটা সরকারি গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা এভাবে অবহেলিত ভাবে পড়ে থাকবে এটা সত্যিই দুঃখ জনক। বিশেষ করে ভবনটির অবকাঠামো নষ্ট হয়ে পড়েছে। একটি পোস্ট অফিস কেবলমাত্র চিঠি-পত্রের জন্য নয়, এখানে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবার মতো সেবাও মেলে। সুতারং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার বা নতুন করে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করা উচিত। খুলনা জিপিও’র সিনিয়র পোস্টমাস্টার জুবাইদা জানান, নিয়োগ পরীক্ষা গুলো বন্ধ থাকার কারণে জনবল নিয়োগ হচ্ছে না, যে কারনে এই জনবল সংকট রয়েছে। আমি ২০২২ সালে যোগদান করেছি। যোগদানের পর ওই অফিসে লোকাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে নিজে ভিজিট করেছি। একাধীকবার ডাক বিভাগে ভবনটি সংস্কারের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। ভবনটি জরার্জীন হয়ে গেছে, সম্পূর্ন ভবনটি আবার নতুন করে করতে হবে। ডাক বিভাগের ওই ভবনটির তালিকা দেওয়া আছে, প্রকল্পের মাধ্যমে পাশ হলে কাজ শুরু হবে। দক্ষিনাঞ্চল খুলনার পোস্টমাস্টার জেনারেল মুহঃ জহুরুল আলম জানান, আমাদের সল্প বাজেটের কারণে ওই পোস্ট অফিসের ভবনটি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। ভবনটি নতুন করে করার মতো বাজেট ডাক বিভাগ দেয় না। সামনে একটু বেশি বাজেট আসলে ভবনটির সংস্কার করবো।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button