স্থানীয় সংবাদ

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়ম দূর্নীতি অভিযোগের তদন্ত শুরু

# আতঙ্কে অফিস সহকারি ও সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা #

স্টাফ রিপোর্টার ঃ পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন গঠিত তদন্ত কমিটি। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ সৈকত মোঃ রেজওয়ানুল হক এর নেতৃত্বে গঠিত কমিটি বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযোগের তদন্ত কাজ শুরু করেন। এসময় তদন্ত কমিটির সদস্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিউর রহমান খান ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট কমিটি ডিএসএফ ও সার্জারী বিভাগের ঔষধ সহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পুরাতন মালামাল বিক্রয়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কিনা সহ বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতি অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয় গুলো খতিয়ে দেখেন। উল্লেখ্য, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জাবির হাসান, মুজাহিদুল ইসলাম ও জামিলুর রহমান সহ কয়েকজন ব্যক্তি ২০২০ সাল থেকে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ এনে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে হাসপাতালের ঔষধ ক্রয় ও পুরাতন মালামাল বিক্রয় সহ বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ করেন। এছাড়া সাধারণ মানুষ হাসপাতালে গিয়ে ঔষধ পায় না এবং সেবা বঞ্চিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পাইকগাছা উপজেলা সচেতন নাগরিকবৃন্দ পাইকগাছায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে এমএসআর টেন্ডারে দুর্ণীতি সম্পর্কে খুলনা বিভাগীয় (স্বাস্থ) পরিচালক বরাবর গত ২২ মে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, লাকী ফার্মেসী দীর্ঘদিন যাবত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমএসআর টেন্ডারে করে আসছে এবং পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সহায়তায় নামে মাত্র কিছু ওষুধ সরবরাহ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়। চলতি অর্থ বছর শেষ হতে মাত্র এক মাস ১০ দিন বাকি থাকলেও পুনরায় কোটি টাকার ওষুধ ক্রয়ের পায়তারা চলছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে ‘শেখ বাড়ির ম্যানেজার ওষুধ বাবু এবং খুলনার শিশু হাসপাতালের সাইফুল। যিনি ইতিমধ্যে দুর্ণীতি অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে তদন্তকার্রী কর্মকর্তা খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শফিউর রহমান খান বলেন, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ ক্রয় টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগে বিষয়ে তদন্তে জন্য গিয়ে ছিলাম। তিনি বলেন, গত ৫ বছরের ওই হাসপাতালের টেন্ডার সংক্রান্তের সব কাগজপত্র আমরা চেয়েছিলাম। এর মধ্যে কয়েক বছরের কাগজপত্র এখনো আমরা হাতে পায়নি। ওটা পাওয়ার পর বুঝা যাবে কবো তদন্ত কার্যক্রম শেষ হবে। তবে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নিদের্শনা রয়েছে।
জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০১৯ সাল ৮ আগষ্ট থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্বনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ডা: নিতীশ গোলদার। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ওই্ হাসপাতালে ওষুধ ক্রয় টেন্ডার থেকে শুরু করে নানা দুর্ণীতির অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ণীতি করেছে ওষুধ ক্রয় খাতে। ডা: নিতীশ গোলদার যোগদান করার পরে গত ৫ বছরে সে অবৈধভাবে নামে বেনামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন। হাসপাতালের সাবেক ওই কর্মকর্তা খুলনার লাকী ফার্মেসীকে সাথে করে নিয়ে নামমাত্র নি¤œ মানের ওষুধ নিয়ে বাকি টাকা কাগজ কলমে বিল করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাকে গত ১৯ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা কলারোয়া উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্রে বদলী করা হয়। এ ব্যাপারে সাবেক পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্বনা ডা: নিতীশ গোলদার বুধবার রাত ৮টা ২১ মিনিটে তার ব্যবহৃত মোবাইল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। এই অনিয়ম ও দুর্ণীতির সাথে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অফিস সহকারি দেবরত সরকার জড়িত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধেও নানান অনিয়ম অভিযোগ রয়েছে। গত ১৯ সাল থেকে তিনি অফিস সহকারি হিসেবে কর্মরত থাকলেও অতিরিক্ত স্টোর কিপারের দায়িত্বে ছিলেন সে। হাসপাতালে নতুন স্টোর কিপার যোগদান করলেও তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেনরি। ওষুধ ক্রয় টেন্ডারের দুর্ণীতির বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে পাইকগাছা পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অফিস সহকারি দেবরত সরকার স্টোর কিপারের দায়িত্ব হস্তান্তরের ব্ষিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে নতুন স্টোর কিপার আসছেন তার কাছে দায়িত্বে হস্তান্তর করে দিছি। পরে এক পর্যায়ে সে স্বীকার করেন এখনো তাকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়নি। কেনো করা হয়নি তার কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। সম্প্রতি সে অতিরিক্ত ক্যাশিয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পান।
সম্প্রতি লাকী ফার্মেসীর এমন অপকর্মের বিষয়ে জানতে পেরে দাকোপ উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বিল আটকে দিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ার সকল কাজ তলব করেছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button