দীর্ঘ নয় মাস পর খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে চালু হলো এনিজওগ্রাম (ক্যাথল্যাব) পরীক্ষা

শেখ ফেরদৌস রহমান : দীর্ঘ নয় মাস পর চালু হলো খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে এ্যানজিওগ্রাম (ক্যাথল্যাব)মেশিন। এর আগে গেল বছর ১৫ নভেম্বর থেকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয় মেশিনটিতে। এরপর থেকে দীর্ঘ নয় মাস পযন্ত বন্ধ ছিল হাসপাতালটিতে হৃদরোগীদের এ্যানিজওগ্রাম পরীক্ষা। মেশিনটির এক্স-রে টিউব বিকল থাকায় মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং কোম্পানির মাধ্যমে আবারও সচল করা হয় । নতুন ভাবে যন্ত্রাংশটি স্থাপনা শেষে গতকাল সোমবার পরীক্ষামূলকভাবে তিনজন রোগীকে এই ক্যাথল্যাব পরীক্ষার সেবা দেয়া হয়। এসময়ে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডা: শেখ আবু শাহীন ও কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডাঃ ইকতিয়ার হোসেন ও ডাঃ স্বদেশ কুমার চক্রবতি উপস্থিত ছিলেন। বিশেষজ্ঞ এসব চিকিৎসকরা উপস্থিত থেকে মেশিনটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করেন। এর আগে অনেক জরুরী রোগীরা হাসপাতালটিতে এনজিওগ্রাম পরীক্ষার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষার বেশি টাকা দশ গুন বেশি টাকা খরচ করে বাহিরের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নিতে বাধ্য হয়েছে। খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালে নাম মাত্র সরকারী খরচে কার্ডিওলজি মাত্র দুই হাঁজার টাকায় এই সেবা দেয়া হয়। যা প্রতি সপ্তাহে দুইবার করে মোট ১০ জন এই সেবা পেয়ে থাকেন। যে কারণে হাসপাতালটিতে রোগীর এনজিওগ্রাম পরিক্ষা করার জন্য সিরিয়াল সংখ্যা থাকে শত শত। এ বিষয়ে কথা হয় হৃদ রোগে আক্রান্ত ক্যাথল্যাব বিভাগের মোঃ খালেদ এর সাথে তিনি বলেন, সরকারী খরচে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি মাত্র আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান। তবে, দীর্ঘদিন এই এনজিওগ্রাম পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বেশ ভোগান্তি হয়েছে রোগীদের। আমি যতটুকু শুনেছি হাসপাতালটির পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহীন স্যার গুরুুত্ব সহকারে বিষয়টি সমাধানের জোর চেষ্টা করেছেন। যেন রোগীদের ভোগান্তি না হয়। অবশেষে তিনি সফল হযেছেন।
মূলতঃ কার্ডিওলজি রোগীর বড় একটি ধমনীতে ফুটো করে তাতে একটা ক্যাথেটার হার্ট পর্যন্ত ঢুকিয়ে দেওয়া হয় । ইশকেমিক হার্ট রোগ নির্ণয়ে এটি একটি সর্বাধুনিক নন-ইনভেসিভ পরীক্ষা। এটি করার জন্য হাতের শিরা (ধমনী নয়) দিয়ে আয়োডিনযুক্ত কন্ট্রাস্ট ডাই প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সিটি স্ক্যান মেশিনের মাধ্যমে হৃদপিন্ডের রক্তনালি বা অন্য কোনো অঙ্গের রক্তনালি পর্যবেক্ষণ করা হয়। ধমনীর গায়ে চর্বি বা ক্যালসিয়াম জমে সরু হয়ে গেলে তা সহজেই বোঝা যায়। ধমনীর যে কোনো ধরনের ব্লক এই পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে। পরবর্তিতে চিকিৎসক ব্লককৃত জায়গায় রিং পড়িয়ে রোগীকে সুস্থ্য করেন। এ বিষয়ে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ আবু শাহীন বলেন, আমরা বেশ কযেকবার অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দিয়ে মেরামত করার চেষ্টা করেছে তবে সফল হতে পারেনি। মূলত এক্স-রে টিউব নষ্ট থাকায় এমন বিলম্ব হযেছে। এই যন্ত্রাংশটি জাপান থেকে আমদানি করেছে। এখন এনজিওগ্রাম মেশিন ভালো হয়েছে। রোগীদের সেবা দিতে ক্যাথল্যাব বিভাগ প্রস্তুত আছে।



