খুলনায় ভোক্তা-অধিকারের ১১ টিমের অভিযানে ৩ লক্ষ ৯৩ হাজার জরিমানা

# জনস্বার্থে অভিযান চলমান রাখার আশ^াস সংশ্লিষ্টদের #
স্টাফ রিপোর্টার : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও খুলনা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয় সমূহ খুলনার নিত্যপণ্যের বাজার ভোক্তাদের নিয়ন্ত্রনে রাখাসহ নিয়মবর্হিভূত কেনাবেচা ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত বাজার তদারকিসহ অভিযান অব্যহত রয়েছে। ওই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোক্তা অধিকারের ১১ টি টিম তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এসময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসমূহের বাজার দর ও ক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেয়া হয়। তদারকিকালে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় এবং কেউ সরকার নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি মূল্য নিলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারি দেওয়া হয়। অভিযান কালে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় বাজার তদারকি ও জরিমানা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম এর নেতৃত্বে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার জাবুসা চৌরাস্তা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স কাজী সোবহান অটোরাইস মিল (ইউনিট-২)কে নকল পণ্য প্রস্তুত করা ও মিথ্যা বিজ্ঞাপন দ্বারা ক্রেতা সাধারণকে প্রতারিত করার অপরাধে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার তিলক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কল্পনা মিষ্টান্ন ভান্ডারকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলী এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার বটতৈল দক্ষিন পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোয়াদ মন্ডল হাইওয়ে হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট কে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে ৩ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদ এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার জামরুল তলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেসার্স সুভাষ স্টোরকে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে শার্শা উপজেলার বাগআচড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে শীমুল সীডসকে ১০ হাজার টাকা ও কৃষি বীজ ভান্ডারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব নিশাত মেহের এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার হামদহ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল মদিনা হোটেলকে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য দ্রব্য উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ওয়ালিদ বিন হাবিব এর নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সদর থানার নিরালা ও বাগমারা মেইন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিত্যসদাই কে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় কারার অপরাধে ৩ হাজার টাকা এবং মেসার্স রিজিয়া মেডিকেল হলকে যথাযথ পন্য সরবরাহ না করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ রিএজেন্ট সংরক্ষণ ও ব্যবহার করার অপরাধে ডিজিটাল মডার্ণ ডায়গনষ্টিককে ২৫ হাজার টাকা এবং সিটি ক্লিনিক এন্ড ডায়গনষ্টিক কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান তানভীরএর নেতৃত্বে সদর উপজেলার আবাদের হাট বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবাদের হাট ট্রেডার্স কে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ৬ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। নড়াইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শামীম হাসান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার মির্জাপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করার অপরাধে মেসার্স ওমর ফারুক স্টোরকে ৩ হাজার টাকা ও মেসার্স বৃষ্টি চানাচুরকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানা এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার দেপাড়া ও সদর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিসমিল্লাহ হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট কে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করার অপরাধে ৫ হাজার টাকা, কেয়া ফার্মেসি কে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ সংরক্ষণ ও বিক্রয় করার অপরাধে ১০ হাজার টাকা এবং মা কসমেটিকস কে অবৈধ পণ্য বিক্রয় করার অপরাধে ৫ শত টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদেরকে সচেতন করার পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেয়া হয়। অভিযানে ১৭ টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। জনস্বার্থে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপার জাতীয় ভোক্তা-অধিকার খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মাদ সেলিম জানান, খুলনার নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে আমাদের নিয়মিত তদারকিসহ অভিযান অব্যহত আছে। ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘিত করলে ওই ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হিসাবে জরিমানা আরোপসহ আদায় করা হচ্ছে। খুলনার বাজার সমূহে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান সরকার প্রদত্ত নিয়মনীতির বাইরে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। জনস্বার্থে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।



