স্থানীয় সংবাদ

রাজস্ব আয়ের স্থল বন্দর বেনাপোলে রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা নিয়ে তোলপাড়

মোঃ মোকাদ্দেছুর রহমান রকি যশোর থেকে ঃ
দেশের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম স্থল বন্দর বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি দেশের আঞ্চলিক, জাতীয় পত্র পত্রিকা ও প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ বের হওয়ার পরে এই নিয়ে নড়ে চড়ে বসেছে কাস্টমস্ বিভাগের কর্মকর্তারা। এমনকি এ বিষয়টি নজরে আসে দুর্নীতি দমনসহ বিভিন্ন গেয়েন্দা সংস্থার। অনেকেই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। বেনাপোলে এমন বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট রয়েছে । যার মধ্যে আলোচনায় ঝড় তুলেছে ভাই ভাই সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা আজিম।
সূত্রগুলো বলেছেন, বেনাপোল-যশোর এলাকায় আজিমের রয়েছে সম্পদের পাহাড়। আলাদিনের চেরাগের ন্যায় রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া চেরাগ। ভারত থেকে আমদানি পণ্যর সাথে অবৈধ নিষিদ্ধ পণ্যের চালান এনে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। রাজস্ব ফাঁকির অর্থ দিয়ে তিনি দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা বেনাপোল ও যশোরে গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়িসহ ক্রয় করেছেন একাধিক জমিজমা। জ্ঞাত আয় বহির্ভুত এ সম্পদের উৎসহ কোথায় তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে আসল কাহিনী
স্থানীয়রা জানান,বেনাপোল দুর্গাপুর মোড়ে এক সময়ের ভাজা বিক্রেতা ছেড়ে ভাই সামাদের হাত ধরে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায় আসেন আজিম। সেখান থেকে তৎকালীন সরকারের (আ,লীগের) আমলে অবৈধ ব্যবসার সাথে গড়ে তোলেন তার সাম্রাজ্য। সীমান্ত পথে চক্রটির মাধ্যমে দেশে আনা হচ্ছে অস্ত্র ও নেশা জাতীয় ঔষধের চালান, সাপের বিষ,মোবাইল, মোবাইল ডিসপ্লে,চুল, ব্লেড ও উচ্চ শুল্ক যুক্ত পণ্য। গত বছরের ৫ই আগস্ট পরবর্তীতে এই সিন্ডিকেটের কয়েকটি চালান আটক হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যায় এই চক্রের সক্রিয়রা। কার্যত কোন ব্যবস্থা নেইনি কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোল কার্গো শাখা সূত্রে জানা যায়,ভারতীয় রপ্তানী কারক সেন শিপিং লাইন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ রপ্তানীকৃত ১শ’ ৯৪ বস্তা কাঁচাঝাল (ওজন ১১টন) ভর্তি ট্রাক চালকের হেফাজতে রাখা পিস্তল ও গুলি উদ্ধার পূর্বক গাড়ীর চালক ও হেলপার দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবি’র একটি চৌকসদল। পণ্য চালানটির বাংলাদেশী আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান শিমু এন্টারপ্রাইজ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনাপোলের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ওমর এন্ড সন্স। যেটা আজিম চুক্তিতে ভাড়া করে চালাচ্ছেন বলে সূত্রগুলো দাবি করেছে।
সূত্রগুলো জানায়, ২০১৯ সালে ভাই ভাই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা আজিম ১০টি অস্ত্রসহ ঢাকা ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আকুলের সাথে তার অস্ত্র,মাদক, সীমানা পিলার, সাপের বিষ, স্বর্ণ চোরাচালান ও আইস ব্যবসার পাটনার ছিলো। গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তীতে আকুলের সেই ব্যবসা নিজের হাতে তুলে নিয়েছে আজিম। আকুল বর্তমান ভারতে পালিয়ে আছে আর সেখান থেকেই পার্টনার আজিমকে দিয়ে অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে সূত্রগুলো আরো জানিয়েছেন, সহজ পন্থায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে বৈধ পণ্যের সাথে অবৈধ পন্যের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অনায়াসে অবৈধ পণ্যের চালান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌছে দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলছেন তিনি। অবৈধভাবে আনা পণ্যের চালান খালাশে তারা ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া করা লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া তার ভাইও অবৈধ ব্যবসায়ের কারণে নিজের লাইসেন্সসহ অন্ততঃ ৮ টি লাইসেন্স ইতিপূর্বে বরখাস্ত হয়েছে। এসব লাইসেন্স গুলো ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকায় চুক্তিতে পণ্যে ছাড়া করানো হত। ধরা না খেলে শুল্ক ফাঁকি হত ২ থেকে ৪ কোটি যা একটি চালান বের হলেই বাজিমাত।
বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আজিম উদ্দীনের সাথে সাংবাদিকরা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের দেখে নেয়ার হুমকি পর্যন্ত দেন। ভাই ভাই সিন্ডিকেটের হোতা আজিম উদ্দীনের বেনাপোল ও যশোর শহরে আলিশান বাড়ির মালিক হওয়ার নেপথ্য খুঁজলে বেরিয়ে আসবে তার অপকর্মের সত্যতা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, বেনাপোল বন্দরের শেড ইনচার্জ, স্কেলের দায়িত্বে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তার সাথে পূর্ব চুক্তি মোতাবেক শুল্ক ফাঁকি দিতে ভারত থেকে এমন পণ্য চালান আমদানি করা হয়। এসব তারই অংশ। শুল্ক ফাঁকি চক্রের গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে বেনাপোল বন্দর দিয়ে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারালেও ফুঁলে ফেঁপে উঠছে অসাধু এসব ব্যবসায়ী। আজিম উদ্দীনের অবৈধ সম্পদের উৎস কোথায় দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নজরে আনলে বেরিয়ে আসবে তার অজানা সব কাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button