মাত্র তিন দিন আগে কেসিসি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত ঃ প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

# ভরাডুবির ভয়ে নির্বাচন নিয়ে গুজব ছড়ানো হয় #
স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের দ্বি বার্ষিক নির্বাচন মাত্র তিনদিন আগে স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও কেসিসি কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা জানান। এ খবর নির্বাচনের পক্ষের প্রাথর্ িও সাধারণ ভোটাররা জানার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা সন্ধ্যায় পাওয়ার হাউজমোড়স্থ এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। একই সাথে ফ্যাসিস্ট আ’লীগের দোসর আঃ হককে (সিনিয়র সহ-সভাপতি) ইউনিয়নে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়। মিছিলে অংশ নেন সভাপতি প্রার্থী কাজী গোলাম মোস্তফা, মনির মৃধা ও শাহজাহান, সাঃ সম্পাদক প্রার্থী মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ইউসুফ হাওলাদার, সালাম মৃধা, আমির হোসেন, ফেলা দাস, ফাতেমা বেগম বিউটি, গৌতম হেলা, খোরশেদ, কোরবান, আঃ সালাম, জাফর মল্লিক, জামাল, আঃ জলিল, হাফিজুর রহমান, মুন্না, নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান প্রমূখ। মহিলা সম্পাদিকা প্রার্থী বিউটি বলেন, আর মাত্র তিন দিন বাকী আছে নির্বাচনের। উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা চলছিল। নির্বাচনী মাঠে নেমে নানা খাতে ইতোমদ্যে তার অর্ধ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেচে। তার মত অন্যান্য প্রার্থীরাও অনেক টাকা খরচ করেছে। আমার কল্যাণ তহবিলের আতœসাৎকৃত ২১ লাখ টাকা ফেরৎ পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছি। এ টাকা যাতে দিতে না হয় সে জন্য কল্যাণ তহবিলের টাকা আতœসাতকারীরা কুটকৌশল করে নির্বাচন বন্ধ করেছে। সাঃ সম্পাদক প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে ভরাডুবির ভয়ে হক- লিটন গ্রুপ কুটকৌশল করে নির্বাচন বন্ধ করেছে। এই আঃ হক ও তার লেঅকজন বিগত দিনে ইউনিয়নের কর্যাণ তহবিলের ২১ লাখ টাকা আতœসাত করেছে। এই টাকা যাতে দিতে না হয় সে জন্য তারা নানা অজুহাতে নির্বাচন বানচাল করেছে। আমরা স্থগিত করা নির্বাচন পূণরায় শুরুর জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় প্রাথর্েিদর যে খরচ হয়েছে তা ষড়যন্ত্রকারী হক-লিটন গ্রুপের কাছ থেকে আদায় করে নেয়া হবে বলে তিনি জানান। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ১৯টি পদের বিপরিতে ৪১জন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে ছুটে বেড়াচ্ছে। এবার ভোটার ৪৪১ জন। প্রার্থীরা প্রতিক নিয়ে দিন রাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। এতে করে এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নসহ ৩১টি ওয়ার্ড অফিসে নির্বাচনী উৎসব বিরাজ করছে। সেই সময় নির্বাচন বন্ধের খবর খুবই দুঃখজনক। তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেসিসি কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি উজ্জল কুমার সাহা, নির্বাচন কমিশনার নাজমুল হক মুকুল ও নির্বাচন কমিশন সচিব লাইসেন্স অফিসার (ট্রেড) খান হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপিততে উল্লেখ করা হয়, “এতদ্বারা খুলনা সিটি কর্পোরেশন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন, রেজিঃ নং- ১৮ এর সকল সদস্য ও প্রার্থীদের জানানো যাচ্ছে, দ্বি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচন-২০২৫ এর নির্বাচনী তফশিল অনুযায়ী আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বি দু’ গ্রুপের একটি গ্রুপ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এমনকি তারা শ্রম অধিদপ্তর, কেসিসির প্রশাসক এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছে গিয়ে নির্বাচন স্থগিত করার অনুরোধ জানায়। অন্য দিকে আর একটি পক্ষ নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পক্ষে দৌড়ঝাপ করেন। নির্বাচনের পক্ষে-বিপক্ষে ২টি গ্রুপ যে যার অবস্থানে অনড়। যেকোন মুহূর্তে সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, কেসিসি প্রশাসন, রাজনৈতিক নেত্রীবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা করে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর খুলনা সিটি কর্পোরেশন এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন এর দ্বি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচনের সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হলো। পরবর্তীতে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এক মত হলে পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করা হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী দু’ পক্ষকে শান্ত থেকে পূর্বের ন্যায় নিজ নিজ কর্মে যোগদান করে নগরবাসীকে সেবা প্রদানের অনুরোধ করা হল।”



