স্থানীয় সংবাদ

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে যাত্রী হয়রানি বেড়েই চলেছে

# মোটা অংকের অর্থের মাধ্যমে ল্যাগেজ ব্যবসার মালামাল ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ #

বেনাপোল প্রতিনিধি :
বেনাপোল চেকপোষ্ট ল্যাগেজ রুলস ব্যাতিরেকে পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানি, স্বজনপ্রীতি উৎকোচ আদায়ের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামত যাত্রীদের পণ্য আটক কিছু পণ্যর ডিএম স্লিপ আবার অনেক পণ্য স্লিপ বাদে রেখে দেওযারও অভিযোগ করেছে পাসপোর্টযাত্রীরা। ভারতীয় ভিসা জটিলতায় পাসপোর্ট যাত্রী হৃাস পাওয়ায় সরকারের ও কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হৃাস পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ আগষ্ট) দুপুর ১ টার সময় সরেজমিনে দেখা গেছে ভারতীয় ও কিছু পাসপোর্ট যাত্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর তাদের একটি মাত্র শাড়ী রেখে দিয়েছে। আর এসব যাত্রীরা তাদের ওই একটি শাড়ি ও কিছু ফল কাস্টমস রেখে দেওয়ায় দাড়িয়ে আছে সকাল ৮ টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত। তাদের পণ্য রেখে দিয়ে কাউকে ১ টা শাড়ীর স্লিপ দিয়ে কাউকে পরে তাদের আনিত পণ্য ফেরত দিয়ে দিবে এ আশ্বাসে ৫ ঘন্টা দাড়িয়ে রাখে স্কানিং মেশিন রুমের বাইরে। আর নারী পুরুষ যাত্রীরা দীর্ঘ সময় দাড়িয়ে থেকে কান্ত হয়ে পড়েছে। আবার অনেকে অভিযোগ করেছে তাদের পাসপোর্ট ও আটকে রেখেছে কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এর এ আরও) সিরাজুল ইসলাম। আর এসব আইন করেছে ওখানকার সুপার জাহাঙ্গীর আলম।

পাসপোর্ট যাত্রী অনিমা ঘোষ বলেন, আমি একটি শাড়ী ও ৫ কেজি ফল নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। কিন্তু কাস্টমস তা রেখে দিয়েছে সকাল ৮ টার সময়। এখন বেলা ১ টা বাজে আমাকে ফল ও শাড়ী ফেরত দেয়নি। আমার মত এখানে প্রায় ভারত থেকে আসা বাংলাদেশী ও ভারতীয় যাত্রী ২০ জন এর মত দাড়িয়ে আছে।

ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী ওয়াসীম রাজা বলেন, বাংলাদেশে আসার মত অবস্থা নেই। কাস্টমস এর হয়রানি চরমে উঠেছে।এর চেয়ে দুই দেশে যাত্রী আসা যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ। তবে আমাদের দাবি আমরা বাংলাদেশে প্রবেশ করলে যদি মনে হয় আমাদের সাথে থাকা কোন পণ্য বেশী আছে সে পণ্য স্পট ট্যাক্স নিলে আমরা সরকারী নিয়ম অনুযায়ি দিব।

বাংলাদেশ ও ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীরা দাবি করে তাদের আনিত কোন পণ্য যদি ল্যাগেজ বহির্ভুত হয় তবে তা কাস্টমস স্পট ট্যাক্স নিয়ে ছেড়ে দিলে আমাদের কোন আপত্তি নাই। যাত্রীদের দাবি সমর্থন করে বেনাপোলের চেকপোষ্ট ব্যাবসায়ি সমিতির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান বলেন,যদি কাস্টমস স্পট ট্যাস্ক নেয় তাহলে দেশে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পায়। আমরা ও চাই কাস্টমস স্পট ট্যাক্স নিয়ে ভারতীয় কিছু পণ্য যা বাংলাদেশে উৎপাদন হয়না সেসব পণ্য ট্যাক্স নিযে রাজস্ব খাতে উন্নয়ন আসুক। সে আরো জানায় কাস্টমস যে সব পণ্য ডিএম করে তা যাত্রীরা কাস্টমস থেকে ছাড় করিয়ে না নেওয়ায় অনেক পণ্য পচে যাচ্ছে।কাস্টমস হাউস থেকে পণ্য ছাড় করাতে গেলে ৩০০% জরিমানা দিতে হয়। এবং ফাইল খুলতে গেলে ৩,৫০০ টাকা লাগে। এর জন্য যাত্রীরা তাদের পণ্য না নেওয়ায় সিন্ডিকেটের মাধ্যেমে নিলামে অর্ধেক টাকায় বিক্রি হওয়ায় সরকার বড় ধরনের রাজস্ব হারাচ্ছে।

বেনাপোল সোনালী ব্যাংকে খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে যে রাজস্ব আদায় হয়েছে পাসপোর্ট যাত্রীদের নিকট থেকে তা নেমে আগষ্ট মাসে অর্ধেকে দাড়িয়েছে। মনে সেপ্টেম্বরে আরো কমে যাবে।

বেনাপোল চেকপোষ্ট কাস্টমস সুপার নাজমুল সিরাজীর কাছে একটি শাড়ী ডিএম করার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন না একটি শাড়ি কোন যাত্রী আনলে তা ডিএম হবে না। তবে আজ কেন ১ টা শাড়ী ভারতীয় যাত্রীর নিকট থেকে ডিএম হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা করার কথা না। তবে যদি কোন অফিসার করে থাকে তবে সে ভুল করেছে । পরবর্তীতের যাতে একটি শাড়ী ডিএম না হয় সেদিকে আমরা খেয়াল রাখব।

চেকপোস্টের বাজার কমিটি ও সচেতন মহল কাষ্টমসের এসব কার্যকলাপে উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছে,তারা বলছে কাষ্টমসে এরকম জোরালো ভাবে পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানী করাটা এই সভ্যসমাজে মেনে নেয়া যায়না এবং তাদের কারনে সরকারি রাজ্স্ব আয়ে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button